বেরোবি ভিসির দুর্নীতি ফের তদন্তে ইউজিসি

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

বেরোবি ভিসির দুর্নীতি ফের তদন্তে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০২১

print
বেরোবি ভিসির দুর্নীতি  ফের তদন্তে ইউজিসি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতির ৪৫টি অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আরও একটি তদন্ত কমিটি। ইউজিসির সিনিয়র সহকারী সচিব ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পত্র সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক বরাবর পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এই পত্রের অনুলিপি ভিসির একান্ত সচিবকেও দেওয়া হয়েছে। এতে ১৪ মার্চ বেলা ১১টায় তদন্তকাজ পরিচালনা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিসির একান্ত সচিব আমিনুর রহমান তদন্ত কমিটির চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৪৫টি অভিযোগ তুলে ধরে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান। এখন ওই ৪৫ অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত করতে রংপুরে যাচ্ছে ইউজিসির তদন্ত কমিটি।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা ৪৫টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়েও অনুপস্থিত থাকা, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস, ইচ্ছামতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে একাডেমিক-প্রশাসনিক পদ দখল, ক্রয়-প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন ইত্যাদি। সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প’ শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজে ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনিয়ম-দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সরেজমিন তদন্ত কমিটি। দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ৪৫টি অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর পেশ করেছি। তা এত দিন পর তদন্ত দল তদন্ত করতে আসছে। এই মর্মে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা ওই দিন তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ প্রমাণের মতো কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকব।’

এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।