শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় ইউজিসির এমন প্রতিবেদন: কলিমউল্লাহ

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় ইউজিসির এমন প্রতিবেদন: কলিমউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৪, ২০২১

print
শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় ইউজিসির এমন প্রতিবেদন: কলিমউল্লাহ

শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনির আশকারায় নিজের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি আজ ঝেরে কেশে বলার জন্যই বসেছি এবং এ জন্য পরিণতি কী হবে, সেটা বিবেচনা করেই এসেছি।’

ইউজিসির দেওয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্য বলেন, ‘ইউজিসির প্রতিবেদন কেন এমন হয়েছে, তার জন্যও পরিপূর্ণভাবে দায়দায়িত্ব শিক্ষামন্ত্রীর। তার পরামর্শে তদন্ত কমিটি এমন আচরণ করেছে।’

তিনি বলেন, এসবের পেছনে কুমিল্লা ও চাঁদপুরের রাজনীতি আছে। কারণ তাদের দুজনের (শিক্ষামন্ত্রী ও উপাচার্যের) বাড়ি একই অঞ্চলে।

লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘অতিসম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি)-কে উদ্ধৃত করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন গুণগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সত্যকে আড়াল করে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে মর্মাহত করেছে। যদিও ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা পাইনি। আমরা লক্ষ্য করছি, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগেই এই বিষয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

বেরোবি উপাচার্য বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ- আমাকে পাওয়া যায় না, আমি নিখোঁজ হয়ে যাই, আমি ঢাকা থাকি। অথচ আমি প্রতিদিন ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করি। ঢাকায় থাকলে লিয়াঁজো অফিসে কাজ করি। রংপুরে থাকলে বাসায় থেকে কাজ করি। দায়িত্বগ্রহণের পর স্বাভাবিকভাবেই সব চলছিল। কিন্তু মিথ্যা ও অসংলগ্ন যেসব তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেয়া হচ্ছে, তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে ইউজিসি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যেখানে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর গাফিলতি আছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ইউজিসির আরেকটি তদন্ত দল কাজ করছে।