উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস

ঢাকা, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস

সনজিৎ সরকার উজ্জ্বল, জাবি
🕐 ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাসের বাইরে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের পরদিন গতকাল শনিবার নিরাপত্তার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে সব হলের তালা ভেঙে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। কয়েকশ’ শিক্ষার্থী শনিবার দুপুর ১টার দিকে তালা ভাঙা শুরু করেন। প্রথমে আল বেরুনি হল, তারপর ফজিলাতুন্নেসা এবং একে একে ১৬ হলের সবগুলোরই তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তারা। তবে তারা হলে অবস্থান না করে বাইরে চলে যান ও ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা সরে গেলে ছাত্রীদের হলগুলোতে ফের তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ওই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হন। সূত্র জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা ‘এক দফা এক দাবি, আজকে হল খুলে দিবি’ স্লোগান দেন। পরে তারা তালা ভাঙা শুরু করেন।

তালা ভাঙার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবারই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মিটিং আছে। সেখান থেকে আমরা আশা করছি কোনো দিকনির্দেশনা আসতে পারে।’ সাত দিনের মধ্যে গেরুয়া এলাকার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, আহত শিক্ষার্থীদের দায়ভার প্রশাসনের গ্রহণ, প্রক্টরের বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি অবিলম্বে প্রক্টরের পদত্যাগ ও হলে শিক্ষার্থীদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়া প্রসঙ্গে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেছিলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাইরের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব তারা নেবেন না।’ এরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। শনিবার বেলা ১২টার মধ্যে হল না খুললে তালা ভাঙার ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল হক রনি বলেন, ‘গেরুয়া এলাকার ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্ববিদ্যালয় হল বন্ধ ঘোষণা করলে এসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে গেরুয়া, আমবাগান, ইসরামনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে ভাড়া বাসায় ও মেসে থাকছিলেন। হল খোলার প্রতিক্রিয়ায় প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলা হয়নি। সরকারি সিদ্ধান্ত না আসলে আমরা হল খোলার সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
এদিকে তালা ভেঙে আবাসিক হলে ঢুকেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সরে যাওয়ার পরপরই ছাত্রীদের হলগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুস সালাম মিঞা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মিছিল, জমায়েত, আবাসিক হলের তালা ভাঙা সিন্ডিকেটে গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলের তালা ভেঙেছে। তবে আমরা জেনেছি তারা হলে অবস্থান করেনি। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে গেরুয়ার এক যুবক। এরপর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গেরুয়া নিজ এলাকা থেকে ওই যুবকে তুলে নিয়ে মারধর করে শিক্ষার্থীরা। এমন ঘটনায় ক্ষেপে যায় এলাকাবাসী।

সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘এলাকার মা বোনদের ইজ্জত বাঁচাতে আমাদের এলাকাকে রক্ষা করতে সবাই বেরিয়ে আসেন। যার ঘরে যা আছে নিয়ে আসেন।’ এরপরেই গেরুয়াবাসীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সময় ওই এলাকায় অন্তত ১০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালীন স্থানীয়দের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের চারটি মোটরসাইকেল ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বেশকিছু দোকান ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

 
Electronic Paper