মাধ্যমিকে লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তি : শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

মাধ্যমিকে লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তি : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

print
মাধ্যমিকে লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তি : শিক্ষামন্ত্রী

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়ার ফলে মেধাবীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে। এতে বিভ্রান্তির সুযোগ তেমন একটা থাকবে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।’ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ বুধবার দুপুর ১২টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত থেকে মাধ্যমিকে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এ তথ্য জানান।

 

বিগত দিনে প্রথম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। তবে এ বছর করোনার ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষাপদ্ধতি বাদ দিয়ে সব শ্রেণির জন্যই লটারিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১০ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিকে লটারিতে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও সবার হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে কোনো সমাবেশ বা জমায়েত করা যাবে না।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক পাঁচটি স্কুলে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। সেই উদ্বেগ দূর করতে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আজ বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়েরের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘এলাকাভিত্তিক ভর্তির কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে ৪০ শতাংশ থাকলেও এবার থেকে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও সাম্য ফিরে আসবে। সবখানেই মেধাবীরা থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদেরও সময় বাঁচবে। শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পর্ক দেখাসাক্ষাৎও বাড়বে।’

গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত মাধ্যমিকের ক্লাস হওয়ার পর কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে তা ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সোয়া কোটির কিছু বেশি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এর আগে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

গত ৭ অক্টোবর ঘোষণা দেওয়া হয়, এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও হচ্ছে না। এরপর মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষাও না নেওয়ার ঘোষণা আসে। পরীক্ষা ছাড়াই সব শিক্ষার্থী ওপরের ক্লাসে উঠবে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলপর্যায়ে টিভি ও রেডিওর মাধ্যমে ক্লাস প্রচার হচ্ছে।