মানসিক চাপে পরীক্ষার্থীরা

ঢাকা, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ ১৪২৭

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স

মানসিক চাপে পরীক্ষার্থীরা

আরিফ শাওন ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

print
মানসিক চাপে পরীক্ষার্থীরা

মানসিকভাবে অনেকটা চাপে পড়েছেন ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সের পরীক্ষার্থীরা। এ মুহূর্তে কী করবেন কিছুই বুঝছেন না। পরীক্ষার বিপক্ষে নন তারা। তারা বলছেন- এমনভাবে পরীক্ষা নেওয়া হোক যাতে কারও কোনো সমস্যা না হয়। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সের পরীক্ষা। দিন নির্ধারণ করে গত ১৬ নভেম্বর সময়সূচি প্রকাশ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। একই দিনে পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাও প্রকাশ করে। এর আগে ১৬ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ চিকিৎসা শিক্ষা-২ থেকে পরীক্ষা গ্রহণের সম্মতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

১৬ নভেম্বর দেওয়া পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় ১৪ দিন আগে হোস্টেলে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়-‘কোভিড-১৯ পজেটিভ শিক্ষার্থী আসন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না নেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী হবে না, এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিতে হবে। তবে কোভিড-১৯ টেস্টে নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।’ এই নির্দেশনায় অনেকেটা হতাশ হয়ে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তারা বলছেন-১৩ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১৪ দিন আগে হোস্টেলে আসতে বলাটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু না।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কথা হয় ঢাকা আইএইচটি এর রেডিওলজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি জানান, তিনি বাসায় আছেন। এখনো হোস্টেলে যাননি। বুধবার হয়তো হোস্টেলে যাবেন। তার সহপাঠীরা কেউ কেউ হোস্টেলে গেছেন। তাদের কাছে শুনেছেন এখনো ৫০ শতাংশই হোস্টেলে আসেনি। হোস্টেলে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হলেও সেখানে তা কোনোভাবেই মানা সম্ভব হচ্ছে না। এক রুমে ৪ থেকে ৫ জনকে থাকতে হয়। ডাইনিংয়ে এক টেবিলে অনেককে একসঙ্গে খেতে হয়। এক ওয়াসরুমই অনেকের ব্যবহার করতে হয়। তিনি বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক হলো পরীক্ষা দিতে এসে কেউ আক্রান্ত হলে তার দায় কেউ নেবে না। একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে। আগে থেকেই কেউ আক্রান্ত থাকলে তিনি পরীক্ষা দিতে পারবেন না।

তাহলে তাদের কী হবে?
ঢাকা আইএইচটি ল্যাব মেডিসিন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক পরীক্ষার্থী জানান, তিনি মঙ্গলবার হোস্টেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানকার অবস্থা দেখে আবার চলে এসেছেন। তিনি বলেন, সেখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। পরীক্ষা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ভার নেওয়ার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। আমি দাবি করবো অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া লাগে। আর আমাদের হুট করে সূচি দেওয়া হলো। ১৬ নভেম্বর সূচি দিয়ে বলা হলো ২৯ নভেম্বর পরীক্ষা!

গত ১৬ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ চিকিৎসা শিক্ষা-২ এর উপ সচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক সম্মতিতে বলেন, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স ও ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং কোর্সসমূহের পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাক্রমে নভেম্বর-২০২০ এর ৪র্থ এবং ডিসেম্বর-২০২০ এর ৪র্থ সপ্তাহে পরীক্ষা গ্রহণের সম্মতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।

একই দিনে পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। এ ছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব ডা. মো. জাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত নিদেশনায় বলা হয়- পরীক্ষার ১৪ দিন পূর্বে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে অবস্থান করতে হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিমিত্তে শুধু অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা হোস্টেলে অবস্থান করতে পারবে। সব পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় বসতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী কোভিট-১৯ আক্রান্ত হয়েছে মনে করে পরীক্ষা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে অবশ্যই সরকারিভাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল থেকে গৃহীত উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করতে হবে। কোভিড-১৯ পজেটিভ শিক্ষার্থী আসন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা দিতে এসে আক্রান্ত হলে বা আগে থেকে আক্রান্ত থাকলে; অবশ্য তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। বিশেষ ব্যবস্থায় পরবর্তীতে তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৩ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীক্ষার ১৪ দিন আগে হোস্টেলে আসতে নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন- এটা ঠিক করেনি। এজন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদে কথা বলার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব ডা. মো. জাহিদুর রহমান বলেন, করোনা পজেটিভের কারণে কেউ নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতে না পারলে পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থা তার পরীক্ষা নেওয়া হবে। এজন্য তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ২২তম সভা হয়। তাতে ছাত্রছাত্রীরা ভ্যাকসিন না পেলে বিশ^বিদ্যালয়, কলেজ খোলা কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়।