পরীক্ষায় অনাগ্রহ, সিদ্ধান্ত কাল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

পরীক্ষায় অনাগ্রহ, সিদ্ধান্ত কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

print
পরীক্ষায় অনাগ্রহ, সিদ্ধান্ত কাল

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর অভিভাবকদের নজর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার দিকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উপাচার্যরা অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভর্তির জন্য দুটি প্রস্তাবও এসেছে। পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়ে আগামীকাল শনিবার একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন উপচার্যরা। বিকল্প হিসেবে এইচএসসি-সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাবও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহর সঙ্গে উপাচার্যদের ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত উঠে আসে। বৈঠকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নেয়া টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। তাতে অনেকেই সায় দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ এইচএসসি-সমমানের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছেন।

কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় ইউজিসির সদস্য ও দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যায় সে বিষয়ে সবার কাছে মতামত চাওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে প্রায় সবাই আপত্তি জানিয়েছেন। সরাসরি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব না হলেও কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। শনিবার পাবলিক উপাচার্য পরিষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক রফিকুল্লাহ খান প্রস্তাব দেন-ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের আগে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে ভর্তি করার।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করালেও নতুন সংকট তৈরি হবে। যেহেতু পরীক্ষা বাতিল করে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে- তাই এ ফল মূল্যায়ন করে ভর্তি না করে এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব জানান তিনি। এ প্রস্তাবে কয়েকজন উপাচার্য সম্মতি দিয়েছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুণ অর রশিদ বলেন, কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হচ্ছে। যেহেতু এবার ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করাটা কঠিন হয়েছে দাঁড়িয়েছে, তাই দুই পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব দেন তিনি।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আগামী শনিবার ভিসিদের বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের সঙ্গে আবারও বৈঠক করার কথা রয়েছে।