শেকৃবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষক ভিসি হচ্ছেন আওয়ামী লীগপন্থীদের সমর্থনে!

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

শেকৃবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষক ভিসি হচ্ছেন আওয়ামী লীগপন্থীদের সমর্থনে!

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

print
শেকৃবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষক ভিসি হচ্ছেন আওয়ামী লীগপন্থীদের সমর্থনে!

উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদ শূণ্য থাকায় দেড় মাস ধরে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অবিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। বেতন ভাতা সচল রাখাসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিমকে রুটিন ভিসির দায়িত্ব প্রদান করা হলেও থমকে আছে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সূত্র জানায়, উপাচার্য পদের জন্য যে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ড. পরিমলকান্তি বিশ্বাস। এ নিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সূত্র জানায়, ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের অনুকূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করেন এই শিক্ষক। ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সিরাজ উদ্ দৌলা হলের প্রভোস্ট পদে তৎকালীন আওয়ামী লীগপন্থী মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামকে সরিয়ে কৃষিতত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পরিমল কান্তি বিশ্বাসকে উক্ত পদে বসানো হয়। নবাব সিরাজ উদ্ দৌলা হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ড. পরিমল বিএনপি’র সকল রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগদানও করতেন।

পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে রাতারাতি খোলস পাল্টে তিনি যোগদান করেন আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলে। বাগিয়ে নেন বিভিন্ন পদ। বর্তমানে তিনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিএনপি আমলে নানা সুযোগ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা যা ইচ্ছে তাই লেখেন এতে আমার কিছু যায় আসে না। একথা বলে তিনি আর কোন কথা কোন কথা বলতে রাজি হোন নি। 

এদিকে সূত্র জানায়, উপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া। কৃষি খাতে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার (স্বর্ণপদক) স্বনামধন্য এই গবেষকের বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম-দূর্নীতি কিংবা বিএনপি জামাতের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ না থাকেলেও তৃতীয় স্থানে থাকা সাবেক কোষধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল হক বেগের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা তার নিজের মেয়ে তাহরিমা হক বেগকে প্রভাব খাটিয়ে শেকৃবিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের জন্য তিনি এখনো বিতর্কিত।

আরো জানা যায়, কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে উদ্যানত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহমদ ও অ্যাগ্রকালচারাল বোটানি বিভাগের অধ্যাপক এ এম এম সামসুজ্জামানকে।