স্কুলে পরীক্ষা ছাড়াই পাস করানোর চিন্তাভাবনা

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

স্কুলে পরীক্ষা ছাড়াই পাস করানোর চিন্তাভাবনা

বিশেষ প্রতিবেদক ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

print
স্কুলে পরীক্ষা ছাড়াই পাস করানোর চিন্তাভাবনা

করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হচ্ছে না ধরেই পরীক্ষা ছাড়াই পরের ক্লাসে অটোপ্রমোশন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে সীমিত আকারে হলেও চলতি শিক্ষাবর্ষের মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে পরের শিক্ষাবর্ষে। শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে এমন প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হচ্ছে।

মাধ্যমিক স্তরে ‘বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট’-বেডু এবং প্রাথমিক স্তরে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি’ (নেপ) প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর সায় মিললে আগামী মাসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলার মতো কিছু হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, বেডু বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।

সেগুলো যাচাই বাচাই করে সারসংক্ষেপ তৈরি করে আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেই প্রস্তাব অটোপ্রমোশন, সিলেবাস কমানোসহ আরও কিছু বিষয় থাকবে। প্রধানমন্ত্রী কীভাবে সিদ্ধান্ত দিবেন তা এখনো বলা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষা বাতিল না করে বিকল্প প্রস্তাবও দিতে পারেন বলে জানান।

জানা গেছে, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সঙ্গে দুই সচিবের একটি বৈঠকে এসব পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন। বৈঠকে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি-জেএসডি পরীক্ষা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার প্রস্তাব দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর প্রাথমিক সমাপনী প্রস্তাব দিবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বেডুর ৩৯ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে এক, সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে সীমিত আকারে হবে প্রতি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা, দুই, নভেম্বরে স্কুল খুললে নেওয়া হবে প্রতি বিষয়ে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা, তিন, ডিসেম্বরেও স্কুল খোলা না হলে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে চলে যাবেন শিক্ষার্থীরা। তবে আগের বছরের মৌলিক পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হবে পরের বছর।

বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, আমরা বলেছি যে পরবর্তী ক্লাসে শিফট করে দেওয়া। যদি প্রমোশন দেওয়া হয় কোনো পরীক্ষা ছাড়া আগের ক্লাসের কিছু অধ্যায় পরবর্তী ক্লাসে পড়ানো হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিক্ষাবর্ষ প্রায় শেষের দিকে।

এ অবস্থায় খুব দ্রুত নিতে হবে সিদ্ধান্ত। সুপারিশগুলোকে শেষ মুহূর্তের যাচাই বাছাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার। জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কমপক্ষে এক মাস সময় নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।