সংসদ টিভির মাধ্যমে নেওয়া হবে ক্লাস

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার উদ্যোগ

সংসদ টিভির মাধ্যমে নেওয়া হবে ক্লাস

তোফাজ্জল হোসেন ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

print
সংসদ টিভির মাধ্যমে নেওয়া হবে ক্লাস

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সবস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থগিত করা হয়েছে পহেলা এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

ফলে স্থবির প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যয়নরত প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম। এ অবস্থায় বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে রেকর্ডিং করার ক্লাস প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে রাখা যায় উপায় খুঁজছে মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্ছ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর গোলাম ফারুক বলেন, করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। এ মুহূর্তে একাডেমিক টাচে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে রেকর্ডিং ক্লাস প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছি। মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের (এ টুআই) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চলবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষকদের ক্লাসগুলো রেকর্ডিং করে সংসদ টিভির মাধ্যমে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে এই ক্লাসগুলো প্রচার করা হবে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মধ্যে রাখতে বিকল্প পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে।

যেভাবে চলছে ভার্চুয়াল ক্লাস
বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়ার পদ্ধতি থাকলেও ইউটিউব লাইভ, ফেসবুক লাইভ, গুগল ক্লাসরুম, মাইক্রোসফট টিম, জুম এবং কোর্সরা এ ৬টি পদ্ধতিতে বাছাই করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লাসের লেকচার শিট আপলোড করা হবে। সেখানেও শিক্ষার্থীদের বাসার কাজ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো গুগল ক্লাসরুম। অনেকে শিক্ষকই এখন গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করে ক্লাস নিচ্ছেন। গুগল স্যুটে নিবন্ধন করে তারপর নির্ধারিত কোড দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন ওই ক্লাসে।

একটি কোর্সে অসংখ্য ক্লাসের পাশাপাশি ২০ জন শিক্ষক তাদের ক্লাস যুক্ত করতে পারেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ক্লাসরুম বানিয়েও কাজে লাগাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কোর্সভিত্তিক আলাদা গ্রুপে লাইভ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, নোট বিনিময় ছাড়াও লাইভ ক্লাস চলাকালে কমেন্টে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারছেন তাদের সমস্যার কথা। ঠিক ওই সময়ে ক্লাসে উপস্থিত না থাকতে পারলেও পরে গ্রুপে ভিডিও হিসেবে থেকে যাবে এই লাইভ ক্লাসগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কিছু লিংক থাকবে যেখানে ক্লিক করেই একজন শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনীয় লেকচার ও ভিডিওগুলো পেয়ে যাবে। তার সুবিধামতো সময় এগুলো দেখে একজন শিক্ষার্থী লেকচারগুলো পড়তে পারবেন।

এ ব্যাপারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা ধরেই বন্ধের আগেই অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। গত বুধবার থেকে অল্প পরিসরে অনলাইনে ক্লাস শুরু করলেও এ সপ্তাহ পুরোদমে ভার্চুয়াল ক্লাস শুরু হয়েছে। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, গতকাল থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছি।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ভিসি প্রফেসর ড. আবদুর রব বলেন, অনলাইনে ক্লাসগুলো পুরোদমে শুরু করতে আরও কিছুদিন লাগবে।