বুধবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

বুধবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

ঢাবি প্রতিনিধি ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২০

print
বুধবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

করোনাভাইরাসের কারণে ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একাডেমিক কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে একটি জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তের পরপরই জানা যায়, মঙ্গলবার থেকে (১৭ মার্চ) থেকে সারাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

বিশ্বে মহামারি আকারে ধারণ করা করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বে ১৫৭টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৪২৮ জনে। আর এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার সাত’শ জনের বেশি মানুষের।চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা করে আসলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। চীনের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৪৭ এবং মারা গেছে ১ হাজার ৮০৯ জন। দেশটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৯০। 

এরপরেই রয়েছে ইরান। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৮ এবং মৃতের সংখ্যা ৭২৪। অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ২৩৬ এবং মৃতের সংখ্যা ৭৫। 

গতকাল রোববার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৪১টি দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৪২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষের। ইতিমধ্যে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ সেরে উঠেছেন।

ইউরোপের কয়েকটি দেশে করোনার বিস্তার বাড়ছে। এ অবস্থায় ইতালির পথ অনুসরণ করে জরুরি বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে স্পেন ও ফ্রান্স। স্পেনে জরুরি কেনাকাটা, ওষুধ ক্রয় কিংবা কাজ ছাড়া মানুষদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। শনিবার সেদেশে দুই হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৭৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮৮ জন।

শনিবার রাতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী মাদ্রিদে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আছেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের বেঁধে দেওয়া নিয়ম-কানুন মেনে চলছেন বলে সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪০০। দেশটিতে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, সিনেমা হল এবং বেশির ভাগ দোকানপাটই এখন বন্ধ। ধর্মীয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, তবে জনসমাগম এবং অনুষ্ঠানসমূহ বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৮৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের। ইউরোপের দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। শনিবার থেকে যুক্তরাজ্য এবং আয়্যারল্যান্ডও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে বিপুলসংখ্যক মার্কিনি দেশে ফিরছেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ ফিরতে শুরু করায় বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। মেডিক্যাল স্ক্রিনিং সরঞ্জাম অপর্যাপ্ত হওয়ার কারণে লম্বা লাইনে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউজের চিকিত্সক।

চীনের মূল ভূখণ্ডে শনিবার নতুন করে ২০ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, হুবেই প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার, মারা গেছেন ৭২৪ জন। জাপানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। দিল্লিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে সাত জন। তাদের মধ্যে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে বিপর্যয় ঘোষণা করা হয়েছে।