বুয়েটে ‘র‌্যাগিং’ ও ‘রাজনীতি’ করলেই বহিষ্কার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬

বুয়েটে ‘র‌্যাগিং’ ও ‘রাজনীতি’ করলেই বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

print
বুয়েটে ‘র‌্যাগিং’ ও ‘রাজনীতি’ করলেই বহিষ্কার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কোনও শিক্ষার্থীর র‍্যাগিংয়ের কারণে অন্য কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করবে। এছাড়াও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করবেন। এখানেই শেষ নয়, কোনো শিক্ষার্থী রাজনীতিতে জড়িত হলেও তাকে বহিষ্কার করবে বুয়েট।

এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের পরিচালক মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার রাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জারি করা নতুন নীতিমালায় ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো শিক্ষার্থী রাজনীতিতে জড়িত থাকলে, রাজনৈতিক পদে থাকলে, রাজনীতি করতে কাউকে উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করলে বা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলে (ক্যাম্পেইন, মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেয়া, গ্রাফিতি অঙ্কন, পোস্টারিং ইত্যাদি) তার শাস্তিস্বরূপ সতর্কতা, জরিমানা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো মেয়াদে বহিষ্কার বা চিরতরে বহিষ্কার করা হবে। অর্থাৎ, বুয়েটে কেউ সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি করলে সর্বোচ্চ সাজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার।

র‍্যাগিংয়ের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েক ধাপে। র‌্যাগিংয়ে কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুর শাস্তি বুয়েট থেকে বহিষ্কার ও থানায় মামলা দায়ের। কোনো ছাত্র গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার হলে অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে।

মৌখিক বা শারীরিক লাঞ্ছনা এবং সাময়িক মানসিক ক্ষতিসহ এ-সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি হচ্ছে সতর্কতা, জরিমানা, হল থেকে চিরতরে বহিষ্কার বা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরত রাখা। এ ধরনের অপরাধীকে শিক্ষাজীবনে ফিরতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক করে দেয়া মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাউন্সেলিং করতে হবে।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

এ ঘটনায় নিহত আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত করতে ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত ১৩ নভেম্বর এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পরে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও ছয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদ বহিষ্কার করা হয়েছে।