সিঁড়িতেই ক্লাস নিলেন ঢাবির সেই শিক্ষক

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬

সিঁড়িতেই ক্লাস নিলেন ঢাবির সেই শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

print
সিঁড়িতেই ক্লাস নিলেন ঢাবির সেই শিক্ষক

ক্লাসে ঢোকার অনুমতি না পেয়ে অবশেষে সিঁড়িতেই ক্লাস নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী। রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ভবনের সিঁড়িতে ক্লাস নেন তিনি। ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্লাসে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে অর্থনীতি বিভাগের এ সহকারী অধ্যাপককে। সিদ্ধান্তকে অবৈধ আখ্যায়িত করে আদালতের দেওয়া রায়ের পরেও ক্লাসে ফিরতে না পেরে প্রতিবাদস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিঁড়িতেই ক্লাস নিলেন এ শিক্ষক।

ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে রুশাদ ফরিদী বলেন, ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব আসলে আমার ছাত্রদের পক্ষ থেকে এসেছে। আমাকে ক্লাস নিতে দেওয়া হচ্ছে না যার কারণে আমাকে সিঁড়িতেই ক্লাস নিতে হলো। ছাত্ররা অনেক উপভোগ করেছে। তারা যদি চায় ক্লাস নেওয়ার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে সপ্তাহে কত দিন তা এখনো ঠিক করা হয়নি। ক্লাসের বিষয়ে ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে ক্লাসে ফিরতে চেয়ে গত বুধবার ও এর আগের দিন মঙ্গলবার বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমের সামনে অবস্থান নেন তিনি। এ সময় তিনি ‘আমি শিক্ষক আমাকে ক্লাসে ফিরে যেতে দিন’ লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক রুশাদ ফরিদীর বিরুদ্ধে ‘শিক্ষকসুলভ আচরণ না করার’ অভিযোগ আনেন। শিক্ষার্থীদের কাছে বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ করেন অন্য শিক্ষকরা। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় বিভাগে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। পরে বিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে বিভাগের ৩১ জন শিক্ষক রুশাদ ফরিদীর সঙ্গে কাজ করবেন না জানিয়ে স্বাক্ষর করেন।

তবে রুশাদ ফরিদীর অভিযোগ, তাকে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেন বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলকভাবে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। এসব অনিয়ম নিয়ে তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে ৭টি চিঠিও পাঠিয়েছিলেন বলে জানান।

বিভাগের শিক্ষকদের অভিযোগ ভিত্তিতে পরবর্তীতে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ড. রুশাদ ফরিদীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১৭ সালের ১২ জুলাই তাকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছুটিতে পাঠানোর চিঠি দেয় সিন্ডিকেট।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর তা পুনর্বিবেচনার দাবিতে ভিসি, প্রো-ভিসি (শিক্ষা), প্রো-ভিসি (প্রশাসন), রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর উকিল নোটিশ পাঠান রুশাদ ফরিদী। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাড়া না দিলে একই বছরের ১৩ জুলাই তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন। ২৪ জুলাই সিদ্ধান্তটি কেন অবৈধ নয় সেটি জানাতে উচ্চ আদালত রুল জারি করে।

দীর্ঘ শুনানির পর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের হাইকোর্টের বেঞ্চ ড. রুশাদ ফরিদীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের দেয়া আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে একই সঙ্গে তাকে কাজে যোগদান করারও নির্দেশ দেয়।