‘বিশেষ শিশুদের খাতা বিশেষভাবে দেখতে হবে’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬

‘বিশেষ শিশুদের খাতা বিশেষভাবে দেখতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

print
‘বিশেষ শিশুদের খাতা বিশেষভাবে দেখতে হবে’

অটিস্টিক শিশুরা নয় বরং যারা স্বাভাবিক বলে নিজেদের ভাবি তারাই সমাজে সত্যিকারের বোঝা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমরা দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও নেশায় আসক্ত। তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরীক্ষার খাতা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখতে হবে। তারা সবই পারে, শুধু বুঝতে হবে মনোযোগ দিয়ে

রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান মিলনায়তনে রোববার সকালে ‘অটিজম ও এনডিডি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় একীভূতকরণ’ শীর্ষক বিভাগীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি প্রকল্প এই সেমিনারের আয়োজন করে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, একটি জাতি তার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী অথবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল তার ওপর নির্ভর করে সে জাতি কতটা উন্নত।

তিনি বলেন, একবার এক অটিজম শিশুকে ফেল করানো হয়েছিল। পরে খাতাটি আবার দেখা হলো। দেখা গেল, সে সব লিখেছে। কিন্তু লেখাগুলো একটু অন্যরকম হওয়ার কারণে প্রথমে বোঝা যায়নি। তাই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের খাতা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখতে হবে।

আমরা যারা শিক্ষক তাদের আগে আলোকিত হতে হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, অনেক শিক্ষক অটিস্টিকদের স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অটিজম বিষয়ে প্রায় ত্রিশ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা অটিস্টিক শিশুদের মূলধারায় নিয়ে আসতে চাই। অটিস্টিক শিশুরা সমাজের জন্য বোঝা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিশেষ প্রতিভা থাকে। পৃথিবীর অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী, আর্টিস্ট তারাও কোন না কোন দিকে অটিস্টিক ছিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন ও রাজশাহীর আনন্দ স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহীন আক্তার রেনী।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ ড. মো. গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএএডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ দিদারুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অটিজম ও এনডিডি বিষয়ক মাস্টার ট্রেইনার ড. ডিএম ফিরোজ শাহ।