চিরতরে বহিষ্কার ২৬ বুয়েটছাত্র

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আবরার ফাহাদ হত্যা

চিরতরে বহিষ্কার ২৬ বুয়েটছাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

print
চিরতরে বহিষ্কার ২৬ বুয়েটছাত্র

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২৬ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। হত্যাকাণ্ড তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। এরপর ডিসিপ্লিনারি বোর্ড গত তিন দিন বৈঠক করে। বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে ২৬ ছাত্রকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জন আবরার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রের আসামি। ওই ২৬ জনের বাইরে আরও ছয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চিরতরে বহিষ্কৃতরা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সহসভাপতি মুহতাসিম পৃষ্ঠা ২ কলাম ৫

ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়ো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল) এবং মোর্শেদ-উজ জামান মণ্ডল।

এ ছাড়া যে ছয়জনকে অন্য অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারা হলেন- আবু নওশাদ সাকিব, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ গালিব, শাওন মিয়া, সাখাওয়াত ইকবাল অভি ও মো. ইসমাইল।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে আবরারের মৃত্যু ঘটে। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামলে তাদের দাবির মুখে কয়েকজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

১০ দফার কয়েকটি মেনে নেওয়ার পর গত ১৫ অক্টোবর মাঠের আন্দোলন থেকে সরে আসে বুয়েট শিক্ষার্থীরা; তবে মামলার অভিযোগপত্র ও অন্য দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দেয়।

পাঁচ সপ্তাহের তদন্তে গত ১৩ নভেম্বর পুলিশ ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিলেও ক্লাসে ফেরার জন্য বুয়েট কর্তৃপক্ষকে তিনটি শর্ত দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ওই শর্তের একটি ছিল অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। এ ছাড়া আগের র‌্যাগের ঘটনায় অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার দাবিও ছিল তাদের।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করলেও সে নিয়ম ভাঙলে শাস্তির নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে যুক্ত করার দাবি রয়েছে শিক্ষার্থীদের।