জাবি খুলে দিতে আট দিনের আল্টিমেটাম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জাবি খুলে দিতে আট দিনের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

print
জাবি খুলে দিতে আট দিনের আল্টিমেটাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে ফেরাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে আট দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, আগামী ২১ নভেম্বরের মধ্যে জাবির আবাসিক হলগুলো খুলে দিতে হবে। তা না হলে ২২ নভেম্বর থেকে আরও জোরালো আন্দোলন শুরু করা হবে। এ ছাড়া ভিসির অপসারণ দাবিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন্ধ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধরা।

বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এর আয়োজন করে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ২১ নভেম্বরের মধ্যে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা রদ করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে হবে। অন্যথায় ২২ নভেম্বর থেকে আরও জোরালো আন্দোলন শুরু করা হবে। এ সময়ে ভিসি কোনো নীতি-নির্ধারণী কাজে অংশ নিতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের ওপর ভিসির প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগের হামলার পর তিনি আর স্বপদে থাকার অধিকার রাখেন না। এরপর তিনি নিজের পদ টেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ করেছেন।

তিনি বলেন, অদক্ষ-অযোগ্য, ভারপ্রাপ্ত প্রশাসন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় তার অপসারণ জরুরি।

এদিকে গতকাল সকালে ফারজানার অপসারণ দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ হয়।

সমাবেশে জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অলিউর রহমান সান বলেন, শুধু দুর্নীতি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যে অচলাবস্থা সে জন্যই এই উপাচার্যের পদত্যাগ করা উচিত।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, প্রশাসন ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে, আবারো সবাই আন্দোলনে আসবে। সরকারের উচিত তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করে তা সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সচল করা।

এতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন রুনুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।