আতঙ্কে হল ছাড়ছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

আতঙ্কে হল ছাড়ছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

print
আতঙ্কে হল ছাড়ছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চালালো হামলার পর প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের এমন নির্দেশনা ও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে হল ছাড়তে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ও বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর হল ছাড়ার সময়সীমা কয়েক দফায় পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে হল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে চালানো হামলার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত হল ত্যাগ করে সে বিষয়ে সকাল থেকে প্রতিটি কক্ষে গিয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার তাদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ফের হামলার আশঙ্কা করছেন আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপদ রাখতে অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষার্থী বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

এদিকে হল খালি করার এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা বলছেন, হঠাৎ হল ছাড়ার এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন তারা। সামনের মাসেই তাদের ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পড়াশুনা বাদ দিয়ে তাদের এখন বাড়ির পথে রওনা দিতে হচ্ছে।

যদিও হল ছাড়ার এ সিদ্ধান্তে সাড়া দেয়নি জাবি ছাত্রলীগ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করলেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তারাও ক্যাম্পাসে থাকছেন।

হামলার ঘটনার পর জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেছেন, ছাত্রলীগ দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করেছে, আমি কৃতজ্ঞ।

এছাড়াও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আছে, তিনি অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন।

জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা টানা ১০ দিনের মতো নতুন ও পুরনো দুটি প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখে। ফলে এই ১০ দিন ভিসি, দুই প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীই প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে ভিসিকে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যতদিন না উপাচার্যকে অপসারণ করা হবেন, ততদিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা সেখানে যান। তারা আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তারা উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকতে পারেননি। এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারবাহী একটি মিছিল সেখানে আসে।

মিছিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ৮ শিক্ষক, ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যাল মেডিকেল সেন্টার ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে শিক্ষকরা হলেন অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস, মীর্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ আরও কয়েকজন।