ঢাবি ভিসির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঢাবি ভিসির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

ঢাবি প্রতিনিধি ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৯

print
ঢাবি ভিসির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

হলগুলোতে গণরুম বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে প্রথম বর্ষ থেকেই সিট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান। এ আশ্বাসে গণরুম ছেড়ে ভিসির বাসভবনে ওঠার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা গণরুম বন্ধের দাবির সঙ্গে একমত। শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। তবে দীর্ঘদিনের জঞ্জাল একদিনে সরানো সম্ভব নয়। আমরা অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করব। এবার প্রথম বর্ষ থেকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার এ আন্দোলনের মুখপাত্র ও ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

উপাচার্যের বরাত দিয়ে সৈকত বলেন, ‘বৈঠকে ভিসি জানান, এ বছর প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের গণরুম নামক সংস্কৃতিতে থাকতে হবে না। গণরুমে ব্যাংক বেডের ব্যবস্থা করা হবে। হল প্রশাসনই শিক্ষার্থীদের যাবতীয় সিট বণ্টন থেকে সবকিছু ঠিক করবে। অছাত্রদের হল থেকে বিতাড়িত করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জায়গা করে দেবে।’

সৈকত আরও বলেন, গণরুম সমস্যার রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। উপাচার্য যে ডেটলাইন দিয়েছেন আমরা সে পর্যন্ত অর্থাৎ নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। এ সময় হতে পারে ১৫-২০ দিন। যদি এরপরও কোনো সমাধান না দেখি তাহলে আমরা আরও বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলব।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সৈকতের নেতৃত্বে গণরুম সংকট সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখে ভিসির বাসভবনে ওঠার সিদ্ধান্ত নেয় গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীরা। উঠতে গেলে প্রশাসনের বাধার মুখে ১৯ শিক্ষার্থী ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় ‘প্রথম বর্ষে বৈধ সিটের অধিকার চাই’, ‘হলের সংখ্যা বৃদ্ধি কর, অতঃপর ছাত্র ভর্তি কর’, থাকার জন্য জায়গা চাই, গণরুমে ঠাঁই নাই’, ‘আমরা এখন চুপসে গেছি, জ্ঞানশূন্য কালোমাছি’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা ফেস্টুন দেখা যায় তাদের হাতে।

এ সময় তারা অভিযোগ করেন, আবাসন সংকটের কারণে প্রতিটি হলেই সৃষ্টি হয়েছে গণরুম। সেখানে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। এসব সিটও নিয়ন্ত্রণ করেন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।