ধর্মঘটে অচলাবস্থায় জাবি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

উপাচার্যের অপসারণ দাবি

ধর্মঘটে অচলাবস্থায় জাবি

জাবি প্রতিনিধি ১০:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

print
ধর্মঘটে অচলাবস্থায় জাবি

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ চেয়ে সোমবার সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, আন্দোলনকে বর্জন করে পূর্বনির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা।

সোমবার সকালে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দেয়। ধর্মঘট কর্মসূচি চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনকারীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সরেজমিন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাগাতার আন্দোলন ও প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সোমবার সকাল ৯টায় নিজ নিজ বিভাগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে গেলে সেখানে অনুষদ ভবনের প্রধান ফটকে বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা হয়।

অনুষদ ভবনে ঢুকতে না দেওয়ায় ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারের পাদদেশে বসে পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের সভাপতি আরিফা সুলতানা বলেন, ‘পরীক্ষা নিতে ঢুকতে না দেওয়ায় আমি শহীদ মিনারে পরীক্ষা নিচ্ছি। আমার লক্ষ্য নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাস পরীক্ষা শেষ করা যাতে সেশন জট না হয়।’

লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিদুল বলেন, ‘আমি ক্লাস করতে এসে দেখি কয়েকজন গেট আটকিয়ে রেখেছে। স্যারদেরও ঢুকতে বাধা দিচ্ছে।’

অবরোধ চলাকালে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘ফারজানা ইসলাম উপাচার্য হিসেবে আর কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আমাদের নিয়মিত কর্মসূচি চলছে, উপাচার্য অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’

আন্দোলনের সঙ্গে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কার কী পরিচয় কিংবা কে শিবির করে সেটা বের হলেই প্রমাণ হয়ে যায় না যে, ফারজানা ইসলাম দুর্নীতি করেননি। ফারজানা ইসলামের দুর্নীতি ঢাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে পথ বেছে নিয়েছে তা হলো- শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো বিষয়।’

এদিকে চলমান আন্দোলনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে জানিয়ে আন্দোলনকারীদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্যপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত সংগঠন ‘অন্যায়ের বিপক্ষে ও উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর।’
এছাড়াও জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত এক আবেদনপত্রে ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চ’ এর আহ্বায়ককে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।