আন্দোলনকারী চিহ্নিতের নির্দেশ

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বেতনবৈষম্য নিরসন দাবি শিক্ষকদের

আন্দোলনকারী চিহ্নিতের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

print
আন্দোলনকারী চিহ্নিতের নির্দেশ

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের তালিকা পাঠাতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোহেল আহমদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি গত বুধবার সব উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা গত সোমবার ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত, মঙ্গলবার ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত এবং গতকাল ১৭ অক্টোবর পূর্ণ দিবস বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। শিক্ষকরা এমন কর্মসূচি ঘোষণার পর অধিদফতর থেকে শিক্ষকদের চাকরি বিধি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এর পরও শিক্ষকরা আন্দোলন অব্যাহত রাখায় সরকার কঠোর অবস্থান নেয়।

শিক্ষ অধিদফতর চিঠি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেতন বাড়ার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এ পর্যায়ে কোনো ধরনের দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালিত হলে তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অধিকন্তু সরকারি কর্মচারীরা এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা বা অংশগ্রহণ করা ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এ ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে চিহ্নিত করে প্রতিদিন উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহপূর্বক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। গত কয়েক দিন ধরে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১১তম গ্রেড ও প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা ১২তম গ্রেড এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা ১৪তম ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদিপ্রাপ্য হন। গ্রেড আপগ্রেডেশনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গ্রেড আপগ্রেডেশনের প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠালেও তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আপগ্রেডেশনের জন্য বেতন বৈষম্য দূর করতে গত ২৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় মন্ত্রণালয়। প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীতের প্রস্তাব করে পাঠানো হয়।

কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় গত ৮ সেপ্টেম্বর তা নাকচ করে চিঠি পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষকের বেতন ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেড করার সুযোগ নেই।

কিন্তু বেতন বৈষম্য নিরসনে শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের ১২টি সংগঠন একত্রিত হয়ে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ গঠন করে এবং কর্মসূচি ঘোষণা করে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান জানান, দাবি আদায়ে ১৪ অক্টোবর এক ঘণ্টা কর্মবিরতি, ১৫ অক্টোবর দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি, ১৬ অক্টোবর অর্ধদিবস এবং ১৭ অক্টোবর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয়। এছাড়া ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক সমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ঐক্য পরিষদ।