শিক্ষা বঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, উৎকন্ঠায় অভিভাবক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শিক্ষা বঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, উৎকন্ঠায় অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিবেদক ১:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

print
শিক্ষা বঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, উৎকন্ঠায় অভিভাবক

শিক্ষকদের অব্যাহত কর্মবিরতির ফলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। কর্মবিরতির ফলে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের এ কর্মবিরতিতে ক্লাস অনেকটা-ই শিক্ষার্থী শূন্য। শিক্ষার্থীদের কেউ মাঠে খেলছে। কেউবা ক্লাসে ঘুমাচ্ছে। আবার কেউ বাড়িতে ফিরে গেছে। এনিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা।

এদিকে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে দেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক আজ নিয়ে তিন দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। পূর্ব-ঘোষণা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে চলছে পূর্ণ কার্যদিবস কর্মবিরতি। এর আগে গতকাল অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। গত পরশু ছিল এক ঘণ্টার কর্মবিরতি।

আজ ঢাকার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালনে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে উপস্থিত হলেও স্যাররা ক্লাস করাবেন না শুনে অনেকে বাড়ি চলে গেছে। অনেককে আবার স্কুল মাঠে খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার ক্লাসের বেঞ্চে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিল।

দাবি আদায় না হলে আগামী ২৩ অক্টোবর শিক্ষকরা রাজধানী ঢাকায় উপস্থিত হয়ে মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। এরপরও দাবি আদায় না হলে লাগাতার আন্দোলনে নামবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও তা আজো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১ গ্রেড দিতে আমরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসছি। কিন্তু পাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেড দেয়া হলেও সহকারীদের ১২তম গ্রেড দিতে বলা হয়। এটিও সরকারের পক্ষ থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ের প্রতিবাদ জানাতে আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ:
বেতন বৈষম্য নিরসন প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি দেয়ায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ১৩ অক্টোবর এ নির্দেশনা দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠি বিভাগীয় উপপরিচালকদের পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সকল বিভাগীয় উপপরিচালকদের বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসারদের কাছেও।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এ পর্যায়ে কোনো ধরনের দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালিত হলে তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অধিকন্তু সরকারি কর্মচারী কর্তৃক এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা বা অংশগ্রহণ করা সরকারি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তবে আন্দোলনকারীদের মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে জেলা-উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। এ তালিকা ডিপিইতে পাঠানো হবে। ডিপিই থেকে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে বলে জানা গেছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি মোতাবেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে।