সন্ত্রাস রোখার শপথ বুয়েটে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সন্ত্রাস রোখার শপথ বুয়েটে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

print
সন্ত্রাস রোখার শপথ বুয়েটে

আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় সব সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, অন্যায়-অবিচার রুখে দেওয়ার গণশপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৬ অক্টোবর) বুয়েট মিলনায়তনে এ শপথ অনুষ্ঠান হয়। এতে বুয়েটের উপাচার্য ও হল প্রভোস্টরা অংশ নেন। শিক্ষকরা মিলনায়তনে উপস্থিত থাকলেও শপথে অংশ নেননি। অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে গণশপথ গ্রহণ করার কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্থান পরিবর্তন করে অনুষ্ঠান হয় বুয়েট অডিটোরিয়ামে। শপথবাক্যে তারা বলেন, ‘এ বিশ^বিদ্যালয়ে সকল প্রকার সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেব।’ বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনায় সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকারও শপথ নেন তারা। শপথে তারা বলেন, ‘এই আঙিনায় যেন আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায়, আর কোনো নিরপরাধ কেউ অত্যাচারের শিকার না হয়, তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করব। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা সমূলে উৎপাটিত করব। এই মুহূর্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য অর্পিত নৈতিক, মানবিকসহ সব দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি বন্ধসহ ১০ দফা দাবি জানান। উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা। ভর্তি পরীক্ষার কারণে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল করেন তারা। এরপর মাঠের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তবে সবাইকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের একাডেমিক (ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব শিক্ষা কার্যক্রম) কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আবরার হত্যায় জড়িতদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। একক সিদ্ধান্তে কোনো কিছু হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন লাগবে, ডিন লাগবে, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব। আপনারা অধৈর্য্য হবেন না, কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।