গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পদত্যাগের হিড়িক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পদত্যাগের হিড়িক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ১০:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

print
গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পদত্যাগের হিড়িক

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সারাদিনে এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, ২টি হলের প্রভোস্ট ও ৪টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ মোট ৭ জন পদত্যাগ করেছেন। সবাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানায়।

পদত্যাগকারীরা হলেন- ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রহিম খান, স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট মুহাম্মদ রবি উল্লাহ, শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট রবিউল ইসলাম, কৃষি বিভাগের চেয়্যারম্যান ড. এম. এ সাত্তার, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রো প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল হক শাহীন ও লাইভ স্টোক বিভাগের চেয়ারম্যান মো. শফিকুজ্জামান।

পদত্যাগকারীরা রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন আহমেদের কাছে নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সেগুলো ভারপ্রাপ্ত ভিসির কাছে পাঠানো হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন করে ৬ জন সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দিয়েছে। মঙ্গলবার রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়।

সহকারী প্রক্টর পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মানসুরা খানম, সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নেসারুল হক, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক নাসিরুদ্দিন, ইইই বিভাগের প্রভাষক চয়ন মণ্ডল, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. হুমায়ূন কবীর ও সিএসই বিভাগের প্রভাষক এস.এ.এম মেহেদী হাসান।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মো. শাহজাহান পদত্যাগ ও সহকারী প্রক্টর নিয়োগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা পদত্যাগকারী করমকর্তাদের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এরও আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িকভাএ বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রশাসন জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ এনে ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করেন। টানা ১২ দিনের আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনও পদত্যাগ করেন।