মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা নতুন পদ্ধতিতে

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা নতুন পদ্ধতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

print
মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা নতুন পদ্ধতিতে

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১১ অক্টোবর। একযোগে ১৯ কেন্দ্রের ৩২টি ভেন্যুতে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় জানানো হয়, এ বছর মাত্র দুই পাতার প্রশ্ন ও উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। আর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র হবে ভিন্ন।

ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বছর সরকারি ৩৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজে চার হাজার ৬৮ আসন ও ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ছয় হাজার ৩৩৬ আসনসহ মোট ১০ হাজার ৪০৪ আসনের বিপরীতে ৭২ হাজার ৯২৮ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন।

এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় সাত হাজার ৯ জন বেশি। ঢাকা মহানগরের পাঁচটি কেন্দ্রের ১১টি ভেন্যুতে ৩৫ হাজার ৯৮৫ পরীক্ষার্থী এবং ঢাকার বাইরে ১৫ জেলায় ৩৬ হাজার ৯৪৩ পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, আগে আট পৃষ্ঠা থাকলেও এ বছর মাত্র দুই পাতার প্রশ্ন ও উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। আর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র হবে ভিন্ন।

মহাপরিচালক বলেন, আগের প্রশ্নের চারটি সেট থাকত। এবার তা থাকছে না। প্রত্যেকটি প্রশ্নপত্রের বিন্যাস হবে ভিন্ন। প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু একই হবে, বিন্যাস হবে পুরোপুরি আলাদা। প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে চারটি উত্তরও ভিন্নভাবে সাজানো থাকবে। অর্থাৎ ৭৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৭৩ হাজার প্রশ্ন হবে।

আর স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব সুপ্রিয় কুমার কুণ্ডু বলেছেন- প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে তা ফাঁস হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

একটি সুষ্ঠু ও অবাধ প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, এ লক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ, পরীক্ষার দিন সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্বিঘ্নে চলাচল; নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কোচিং সেন্টার বন্ধ করা, ফটোকপি মেশিন বন্ধ রাখা, পরীক্ষা কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্ন ও উত্তরপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কুচক্রী মহলের অপরাধ তৎপরতা বন্ধে কাজ করা হচ্ছে। এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর সব পদক্ষেপ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

সাইবার-ক্রাইম প্রতিরোধ এবং পরীক্ষার আগের দিন রাত ১০টা থেকে পরীক্ষার দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি সীমিত রাখতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিটিআরসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান সুপ্রিয় কুমার।

এ বছর প্রশ্নপত্র প্রণয়নে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র পাঠানোর জন্য ট্রাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত ট্র্যাকিং ডিভাইস ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি জোরদার করেছে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার দিন সকাল ৯টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিদর্শনকারী টিমসহ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, হেডফোন, ব্লুটুথসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা কেন্দ্রে আনা, বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান সুপ্রিয় কুমার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্, ওভারসাইট কমিটির সদস্য ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।