বিড়ম্বনা কমেছে অর্থ পেতে

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

শিক্ষকদের অবসর ভাতা

বিড়ম্বনা কমেছে অর্থ পেতে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

print
বিড়ম্বনা কমেছে অর্থ পেতে

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বর্তমান সরকার ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্ববর্তী কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বলতে পারবেন না, এসব খাতে এত বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই দুই খাতে তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা : অর্জন ও মানোন্নয়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর কল্যাণ সুবিধার অর্থ দ্রুত ছাড় করতে উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দেন শিক্ষকরা। অবসর কল্যাণ সুবিধা তহবিল নিয়ে উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী সেই ফান্ডের মধ্যে আরও টপ-আপ করেছেন যাতে দীর্ঘসূত্রতা না থাকে। অবসর ও কল্যাণ ফান্ডের অর্থ পেতে দীর্ঘসূত্রতা কমেছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম, তিনি সচিব মহোদয় এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন, এখন আর কতটুকু গ্যাপ আছে, অ্যাভারেজে কতটুকু দীর্ঘসূত্রতা হয়? এভাবে একজন প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ-অবসরের পয়সা পেতে কত সময় লাগে- এত চিন্তা, সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যেও চিন্তা করছেন। আমরা এভাবে কখনো চিন্তা করতে পারিনি এভাবে তিনি কোনো শিক্ষকের কথা চিন্তা করেন। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বোর্ডের যে পরিমাণ অর্থ আছে, সরকার একটা আইন পাস করেছে- সেখানে বলা হয়েছে এই সমস্ত ফান্ড নিয়ে যারা বসে আছেন, রাষ্ট্রের অর্থ রাষ্ট্রের কাছে যাবে।

অশিক্ষিত ব্যক্তির দাপট
অনুষ্ঠানে বরিশালের একজন অধ্যক্ষ তার কলেজ পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে বরখাস্ত করার বিষয়টি তুলে ধরলে উপমন্ত্রী তার জের টেনে বক্তব্য দেন। ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষকদের যদি আমরা সঠিকভাবে মূল্য দিতে না পারি, তারা যদি সঠিকভাবে জ্ঞান চর্চা করতে না পারেন এবং অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত ব্যক্তির দাপট বা নির্দেশনা বেশি থাকে সেখানে শিক্ষাদান এবং জ্ঞান চর্চার পরিবেশ কোনোভাবেই থাকবে না। অশিক্ষাই সেখানে বিস্তৃত হবে এবং নৈতিকতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি কীভাবে নৈতিকতা শেখাবেন, এটা বাস্তবতা।

শিক্ষকরাই সফটওয়্যার
তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে শিক্ষকদের আরও কীভাবে দক্ষ করা যায়, তা তুলে ধরে শিক্ষকদের সফটওয়্যারের সঙ্গে তুলনা করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অবকাঠামোগুলো সব হার্ডওয়্যার। চাইলে আমরা হার্ডওয়্যার তৈরি করে দিতে পারি। কিন্তু এই হার্ডওয়্যার চালাবে কে? হার্ডওয়্যার চালানোর সফটওয়্যার আমাদের শিক্ষকরা। সফটওয়্যার ঠিকভাবে না চললে হার্ডওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করবে না। সফটওয়্যার ভালো না হলে হার্ডওয়্যার চলবে কীভাবে? এটাই বাস্তবতা। এজন্য শিক্ষকদের উন্নতমানের সফটওয়্যার হতে হবে।

শিক্ষকদের অবসরে যাওয়ার বিষয়ে উপমন্ত্রী বলেন, ৬০ বছরে তারা অনেক বিজ্ঞ হন। কিন্তু ওয়াইজ ব্রেনে যখন বিদায় নিতে হয়, এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, কল্যাণ তহবিল এবং অবসর সুবিধা এবং পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে প্রস্তাব আহ্বান করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দূরদর্শী ছিলেন বলে সাহস করে যুদ্ধপীড়িত দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য তাহমিনা বেগম। বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি এবং রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুর রশীদ।