সরকারি কলেজ বেহাল

ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সরকারি কলেজ বেহাল

ফেনী প্রতিনিধি ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

print
সরকারি কলেজ বেহাল

ফেনীর সোনাগাজী সরকারি কলেজে প্রশাসনিক ভবনসহ চারটি দ্বিতল ভবনের চারটি ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ বলছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শ্রেণি কক্ষে ছাদে পলেস্তরা খসে পড়ায় দুটি ভবন পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারপরও কক্ষ সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়ে ভবনগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সম্প্রতি শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে বাণিজ্যিক ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় ছাদের বিশাল একটি অংশ হঠাৎ দরজার সামনে খসে পড়ে। এসময় আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্লাস থেকে বের হয়ে কলেজের মাঠে চলে যায়। অল্পের জন্য শিক্ষার্থীরা প্রাণে বেঁচে গেছেন।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সোনাগাজী উপজেলা সদরে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৮৮ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে কলেজের প্রশাসনিক ভবন নির্মান করা হয়। এরপর ১৯৯৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত কলেজে আরও তিনটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ভবনগুলোর ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ায় কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। এছাড়া মানবিক, বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞান ভবনের পাঁচটি কক্ষে ও বারান্দায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফেটে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ভবনের দরজা-জানালা। মেঝে ও ভবনের খুঁটিগুলোতে লম্বা ফাটল সৃষ্টি হওয়ার পর শিক্ষকেরা ঝুঁকি নিয়ে তিনটি কক্ষে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এছাড়া বিজ্ঞান ভবনের একটি কক্ষ মাটিতে ধসে যাওয়ায় শিক্ষকরা কক্ষটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মাঈন উদ্দিন প্রয়োজনে মাঠে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে পাঠদান করাব। কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে ভবনগুলোতে ক্লাস করাতে চাই না। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পলেস্তরা খসে পড়ার ভয়ে ক্লাসে আসে না। এতে দিন দিন কলেজে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহি উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কলেজের সি ব্লকে ২০৭ এবং ২০৮ নম্বর কক্ষের মাঝামাঝি স্থানে বারান্দার সিলিংয়ের বিরাট একটি অংশ ক্লাস চলাকালীন সময়ে খসে পড়ে। তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ভেতরে ছিল। ফলে শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে কলেজের কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নোয়াখালী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ফেনীর সহকারী প্রকৌশলীকে জানানোর পর তারা তিনটি ভবনের দোতলায় ক্লাস নিতে নিষেধ করেছেন।