ছাত্র ভিসায় ব্রিটেন গেলে মিলবে কাজের সুযোগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

ছাত্র ভিসায় ব্রিটেন গেলে মিলবে কাজের সুযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

print
ছাত্র ভিসায় ব্রিটেন গেলে মিলবে কাজের সুযোগ

স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের জন্য দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। ব্রিটিশ হোম অফিসের ঘোষণা করা নতুন প্রস্তাবনার ফলে ২০১২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে’র নেওয়া সিদ্ধান্তকে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। তেরেসা মে নিয়ম করেছিলেন, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার মাসের বেশি ব্রিটেনে অবস্থান করতে পারবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নতুন পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা বুঝতে এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের পেশা গড়ে নিতে সহায়ক হবে। কিন্তু মাইগ্রেশন ওয়াচ নামে একটি প্রচারণা গোষ্ঠী এ পদক্ষেপকে ‘পশ্চাৎমুখী’ বলে উল্লেখ করেছে। সেসব শিক্ষার্থীরা আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যে স্নাতক পর্যায়ে কিংবা তার থেকে উঁচু কোনো ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা শুরু করবেন তারা এ পরিবর্তিত নিয়মের সুযোগ পাবেন। তবে শর্ত থাকবে তারা যেনতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন যাদের, ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ইতিহাস রয়েছে।

এদিকে সরকারের ঘোষণাটি এমন এক সময় এলো, যখন একই দিনে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি জেনেটিক প্রকল্প চালু করা হলো। প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে ইউকে বায়োব্যাংক নামে একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থার অধীনে, যাদের কাছে অন্তত ৫ লাখ মানুষের জেনেটিক তথ্য ও নমুনা রয়েছে। ইউকে বায়োব্যাংক গত কয়েক বছর ধরে ৫ লাখ ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবকের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা এবং তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা এখন বিশ্বের গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত। রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য গবেষকরা এ তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার গর্বিত ইতিহাস রয়েছে ব্রিটেনের। এখন বিশ্বের বৃহত্তম জেনেটিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে পুরো বিশ্ব থেকে বিশেষজ্ঞদের এক করছি আমরা, যাতে প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতি আবিষ্কার তথা প্রাণ বাঁচানো সহজ হয়।

তিনি বলেন, বিশ্বের উজ্জ্বল এবং মেধাবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে পড়শোনা আর কাজ করার জন্য সুবিধা উন্মুক্ত না হলে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। এজন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সক্ষমতা চিহ্নিত করা এবং যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে নতুন রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি পাটেল বলেন, এ সিদ্ধান্ত সরকারের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ।

ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়ান অ্যাবোট বলেন, লেবার পার্টি বরাবরই বলে আসছে, স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পর কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে করে তারা আমাদের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণায় অবদান রাখবে এবং এর ফলে বিশ্বের মেধাবী এবং সেরাদের আনতে পারব আমরা।