ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে জবির প্রশাসনিক কাজ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে জবির প্রশাসনিক কাজ

জারিন তাসনিম অর্নি, জবি ২:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

print
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে জবির প্রশাসনিক কাজ

শতবর্ষী ভবনে চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রশাসনিক কাজ। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে অসংখ্য শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মকর্তারা এ ভবনে আসেন। ফলে পুরনো এই ভবনে যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যত দ্রত সম্ভব এই ভবন থেকে প্রশাসনিক কাজ সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে জবি প্রশাসন।

দোতলা ভবনটির ওপর তলায় রয়েছে উপাচার্যের কার্যালয়, উপাচার্যের অডিটোরিয়াম, ট্রেজারারের কার্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি অফিস, জনসংযোগ কর্মকর্তার দফতর ও সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। নিচ তলায় রয়েছে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়।

জানা যায়, ১৯০৯ সালে ঢাকার কমিশনার স্যার রবার্ট নাথানের প্রচেষ্টায় আশি হাজার টাকার অনুদান পাওয়া অর্থে তৈরি হয় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের একাডেমিক ভবন। ভবনের একটি নামফলক থেকে যায় এই রাজা মন্থাথ ১৯১০ সালে ভবনটির শুভ সূচনা করেন। ১০৬ বছরের এই পুরনো ভবনে চলছে জবির যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এভবনে দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান, ‘সবসময় ভয় কাজ করে ভবনের কখন কি হয় এই নিয়ে। যেহেতু চাকরি করি তাই ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়। একটু বাতাস লাগলেই ভয় ঢুকে যায়, এই বুঝি কিছু কিছু ঘটল। প্রশাসন কিছু না করলে আমরা কী করব?

জানা গেছে, নেপাল ও ভারতের বড় বড় দুটি ভূমিকম্পের পর এই ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা যায়। পরে বুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞ এনে ভবনের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানান, এই ভবনের দক্ষিণ অংশে বড় ধরনের ফাটল থাকায় ভবনে ভারী কোনো কিছু তোলা বা রাখা যাবে না। এছাড়া লোক জনের চলাচল ও বেশি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে জবি প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার সাহা খোলা কাগজকে বলেন, ‘এই ভবনের ব্যাপারে আমরা বুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞ এনে দেখিয়েছি এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।’

রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসে আছি। উপায় নেই, আমাদের কোনো জায়গা নেই, যেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো যায়। তাছাড়া এখানে যে সব গুরুত্বপূর্ণ নথি আছে, তা স্থান সংকুলানের ফলে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারছি না। আমি আশা করি ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে আমাদের যাবতীয় নথিগুলোকে ডিজিটালাইজ করে সংরক্ষণ করতে পারব।