আন্দোলনকারীকে ছাত্রলীগের মারধর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

আন্দোলনকারীকে ছাত্রলীগের মারধর

জাবিতে আলোচনা স্থগিত

জাবি প্রতিনিধি ১০:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

print
আন্দোলনকারীকে ছাত্রলীগের মারধর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনে সক্রিয় এক শিক্ষার্থীকে শনিবার মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম অভিষেক মণ্ডল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪১তম ব্যাচ ও শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

আর মারধরের শিকার শিক্ষার্থী সাইমুম ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম আবর্তন ও আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের আবাসিক ছাত্র। একই সঙ্গে তিনি জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও চলমান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।

এ ঘটনায় মারধরের শিকার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি পূর্ব নির্ধারিত আলোচনার টেবিলে না বসে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মণ্ডলকে হল থেকে বের না করা পর্যন্ত তারা আলোচনার টেবিলে বসবেন না।

জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে সাইমুম ইসলাম শহীদ রফিক জব্বার হলের সামনের খাবার দোকানে নাস্তা করতে যান। এ সময় পাশের সিটে বসা ছিলেন অভিষেক মণ্ডল। নাস্তারত অবস্থায় সাইমুমের মুঠোফোনে একটি কল আসে। সে কলটি রিসিভ করে কথা বলতে থাকলে অভিষেক মণ্ডল ধমক দিয়ে তাকে আস্তে কথা বলতে এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে সাইমুম স্থান ত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কলার ধরে দোকানের বাহিরে বের করে লাকড়ি দিয়ে মারধর করেন অভিযুক্ত অভিষেক মণ্ডল।

মারধরের বিষয়ে ভুক্তভোগী সাইমুম ইসলাম বলেন, ‘আমি সকালের নাস্তা করছিলাম। এ সময় একটি জরুরি ফোন রিসিভ করে কথা বলি। কিন্তু পাশে বসে থাকা অভিষেক মণ্ডল আমার ওপর চড়াও হন। পরে কলার ধরে দোকানের বাহিরে এনে লাকড়ি দিয়ে মারধর করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মণ্ডল বলেন, ‘আমার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে নাস্তা করতে গিয়েছি। সেখানে অনেক সিট ফাঁকা ছিল; কিন্তু সাইমুম গা ঘেঁষে আমাদের পাশে বসে। এ সময় তার ফোনে কল এলে সে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে। পরে আমি তাকে একটু ধমক দিয়ে কথা বলি। তারপর সে আমার সঙ্গে বেয়াদবি করলে হাতাহাতি হয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।