সেবা চলছে ধুঁকে ধুঁকে

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঢাবি মেডিকেল সেন্টার

সেবা চলছে ধুঁকে ধুঁকে

সিনজাত রহমান সানি, ঢাবি ৩:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
সেবা চলছে ধুঁকে ধুঁকে

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জীর্ণশীর্ণ ভবন চিকিৎসকদের বাজে ব্যবহার এবং ওষুধের কৃত্রিম সংকটে কাক্সিক্ষত সেবাবঞ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী। ২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির চিকিৎসক সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন। মেডিকেল সেন্টারে পাঁচজন খণ্ডকালীনসহ অ্যালোপ্যাথিক বিভাগে রয়েছেন ২২ চিকিৎসক। হোমিওপ্যাথিক বিভাগে আটজন।

চারটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। দিনের বেলায় চিকিৎসক সংখ্যা বেশি থাকলেও রাতে থাকেন মাত্র একজন। চক্ষু চিকিৎসক মাত্র দুজন। দন্ত বিভাগে দুজন (একজন খণ্ডকালীন) আর আলট্রাসনো, হৃদরোগ বিভাগে একজন করে খণ্ডকালীন চিকিৎসক রয়েছেন। নাক-কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন প্রতি সোমবার ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ সপ্তাহে মাত্র তিন ঘণ্টা, হদরোগ (কার্ডিওলজি) বিশেষজ্ঞ প্রতি বৃহস্পতিবার রোগী দেখেন এক ঘণ্টার জন্য।

সূত্র জানায়, মেডিকেল সেন্টারে এক্স-রে করা যায় রোববার-বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার কেউ এক্স-রে করলে রিপোর্ট মেলে দুদিন পর রোববার। আল্টাসনোগ্রাফি করা যায় প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে সপ্তাহে চারদিন। ফিজিওথেরাপি করা যায় প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে।

সরেজমিন চিকিৎসাকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়- তৃতীয় তলায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের বিছানাগুলো নতুন আনা হলেও পেছনের বারান্দায় ময়লা-আবর্জনা এবং পুরনো মালামালের স্তূপ পড়ে গেছে। জরাজীর্ণ ভবনে ধুকে ধুকে চলছে কার্যক্রম। চিকিৎসাকেন্দ্রে বৈদ্যুতিক পাখার অভাব রয়েছে। পুরনো পাখাগুলো কোনোমতে ঘোরে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রেরই চিকিৎসা প্রয়োজন। যদি বাইরে থেকেই এক্স-রে করতে হয়, সময় মতো ডাক্তার পাওয়া না যায় তবে নামমাত্র মেডিকেল সেন্টারের প্রয়োজন কি? বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলমোহরযুক্ত ওষুধ বাইরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে ঢাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুত্তাকি খোলা কাগজকে বলেন, কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন, তবে তাকে সেবা না দেওয়া পর্যন্ত ডাক্তার থাকেন। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, চিকিৎসকদের তালিকা করে দিয়েছি। তারা সময় অনুযায়ী বসছেন। কোনো অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।