শঙ্কায় দুই হাজার শিক্ষার্থী

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

শিক্ষকদের আন্দোলনে অচল রাজশাহী পলিটেকনিক

শঙ্কায় দুই হাজার শিক্ষার্থী

মহানগর প্রতিনিধি, রাজশাহী ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

print
শঙ্কায় দুই হাজার শিক্ষার্থী

আট বিভাগের দুই হাজার ২৫০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে। বন্ধ আছে দ্বিতীয় শিফটে সকল কার্যক্রম। ঝুলে আছে চলতি ২০১৯ সেশনের ভর্তি কার্যক্রমও। এ অনিশ্চিয়তার মধ্যে নতুন করে যোগ হয়ে আরও ৫৫০ শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম। এমন অচল অবস্থায় ধুকছে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি দ্বিতীয় শিফটে ৫০ শতাংশ ভাতাসহ দাবিগুলো পূরণের। শুধু তাই নয় বন্ধ আছে এক বছরে বেশি বেতন। তাই দ্বিতীয় শিফটের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত দিয়েছেন অধ্যক্ষের কাছে শিক্ষকরা।

ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা জানান, প্রথম পর্ব, তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম মিলে দুই হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের। এর মধ্যে চলতি শিফটে ভর্তির আগেই ঝুলে আছে ৫৫০ শিক্ষার্থী (অনলাইনে ভর্তির কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে কলেজের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়নি, এমন শিক্ষার্থী)।

যদিও চলতি বছরের গত ১ আগস্ট ওরিয়েনস্টেশন (নবীনবরণ) অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম শিফটের। কিন্তু দ্বিতীয় শিফটের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়নি।

এ নিয়ে গতকাল রোববার বেলা ১২টার দিকে ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় শিফটে নতুন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থী তারেক জানান, তাদের দাবি আন্দোলন নয়, ক্লাসে ফিরে যেতে চান তারা। আর শিক্ষকরা বলছেন, নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, দ্বিতীয় শিফটের জন্য। না হলে দিতে হবে শতভাগ সুযোগ সুবিধা। তাদের এমন দাবির মুখে আটকে গেছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন।

অনলাইনে ভর্তি হয়ে কলেজের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে এসেছেন দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষর্থী সোমায়া খাতুন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন থেকে ভর্তির জন্য ঘুরছি। কিন্তু ভর্তি হতে পারছি না। আবার কলেজ কর্তৃপক্ষের থেকে আগে বলেছে, সাত দিনের মধ্যে কলেজে ভর্তি ও ক্লাস করতে হবে। এছাড়া কলেজের সকল ভর্তির কার্যক্রম শেষ করতে হবে। না হলে ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে শিক্ষার্থীর।

এমন অনিশ্চিয়তা শিক্ষার্থীর অভিভাবক রেখা বেগম বলেন, তারা জয়পুরহাট জেলা থেকে এসেছেন ভর্তির জন্য। কিন্তু এমন অন্দোলনের কারণে ভর্তি অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। আবার ভর্তির সময় রয়েছে তিনদিন মাত্র। এ তিনদিনের মধ্যে ভর্তি হতে না পারলে কী হবে শিক্ষার্থীদের।

অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষকদের এমন সমস্যা সমাধানের শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে আন্দোলন করলে পারেন তারা। তবে অন্দোলনরত শিক্ষক আজম বলেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস বা পরীক্ষা নিবেন না তারা।

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন বলেন, দ্বিতীয় শিফটে শিক্ষকরা সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। তাই অনলাইনে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলেও কলেজের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, সরকারের শিক্ষামন্ত্রাণালয় বিষয়টি দেখছেন। খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।