সমন্বয় নেই ডাকসুতে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

সমন্বয় নেই ডাকসুতে

ব্যক্তি উদ্যোগে ইতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রশংসা কুড়াচ্ছে

হাসান ওয়ালী ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

print
সমন্বয় নেই ডাকসুতে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন চার মাস পেরুতে চললেও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কার্যক্রম শূন্যের কোঠায়। সেকেন্ড পার্লামেন্ট খ্যাত ডাকসু এখনো পায়নি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে মৌখিক সম্মতিতে। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মাঝেই ডাকসুর কয়েকজন সদস্য ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। কেন্দ্রীয় সংসদে জিএস-এজিএসসহ ২৫ পদের ২৩ পদ পায় ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী। ভিপিসহ বাকি ২ পদে জয় পায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের ছিল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। প্রায় সব প্রার্থীদের ইশতেহারে আবাসন সমস্যার সমাধান, গেস্টরুম প্রথা বাতিল, খাবারের মান উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের মৌলিক সব সমস্য সমাধানে রূপরেখা ছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব সমস্যা সমাধানে কার্যত কেনো পদক্ষেপ নেয়নি ডাকসু। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডাকসু নেতারা ব্যক্তি ইমেজ রক্ষায় বিভিন্ন হলে ঝটিকা সফর করে প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কথা বলেন। সে ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু সে পর্যন্তই থমকে যায় উদ্যোগ।

শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সমস্যা সমাধানে ডাকসুর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় আলোর মুখ দেখছে না এসব উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাকসুর একজন সদস্য জানান, ‘সমন্বয়হীনতার কারণে ডাকসু কার্যকর হয়ে উঠতে পারছে না।’

সমন্বয়হীনতার বিষয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর খোলা কাগজকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের অসহযোগিতার কারণে সত্যিকার অর্থে কার্যকর হয়ে উঠছে না ডাকসু। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনো আনুষ্ঠানিক মিটিং ছাড়াই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রশাসনের যোগসাজশে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িতও হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় এই সমন্বয়হীনতার বিপরীতে বেশ কিছু সদস্যের কার্যক্রম নজর কেড়েছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডে প্রশংসা কুড়িয়েছেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার। রমজানে টিএসসিতে ইফতারের পরিবেশ তৈরি, সপ্তাহের প্রতিদিন টিএসসির গেট খোলা রাখা-এসবই হয়েছে তার উদ্যোগে। দক্ষিণ কোরিয়ার হ্যাংসু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরিয়ান-বাংলা কালচারাল এক্সচেঞ্জ নামের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের নজর কেড়েছেন তিনি।

ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী কাজ শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত গণকবর সংরক্ষণে। তিনি খোলা কাগজকে জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব স্থান সংরক্ষণ করা হবে।

ডাকসুর সদস্য রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য সব হলের কর্মচারীদের নামের তালিকা একত্রিত করে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। যাতে করে যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই যোগাযোগ করতে পারেন। ঐতিহ্যের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মঈনুল ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, এ উদ্যোগগুলো পজেটিভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছেও এগুলো প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা আবাসন সংকট ও খাবারের মান বাড়ানো নিয়ে ডাকসু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নিলে ডাকসুর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

ইশতেহার অনুযায়ী আবাসন সমস্যার সমাধান, গেস্টরুম প্রথা বাতিল, খাবারের মান উন্নয়নে ডাকসুর পদক্ষেপ কী জানতে চাইলে এজিএস সাদ্দাম হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, আবাসন সংকট দূর করা আমাদের মূল লক্ষ্য, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। আমরা ইতোমধ্যে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল বাড়ানোর জন্য। এ ছাড়া যাদের শিক্ষা জীবন শেষ হয়েছে, তারা যেন হলের সিট ছেড়ে দেয় সে বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি।

আনুষ্ঠানিক মিটিং না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে-ভিপি নুরুল হক নুরের এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি ডাকসু একটি পার্লামেন্ট। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামত অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’