মাদ্রাসার ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেসবুকে সরব

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মাদ্রাসার ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেসবুকে সরব

সচেতনতা চান আলেমরা

হাসান ওয়ালী ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০১৯

print
মাদ্রাসার ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেসবুকে সরব

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ থাকলেও মাদ্রাসায় পড়া শিক্ষার্থীদের ৬৫ শতাংশ সরব রয়েছেন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন। তবে এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশের যথাযথ সচেতনতা না থাকার কারণে অনলাইনে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা মুভ ফাউন্ডেশনের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্বাক্ষরতা’ শীর্ষক এ গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মিনহাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় এতে অতিথি ছিলেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী, সাবেক তথ্য কর্মকর্তা গোলাম রহমান, ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশনের কর্মকর্তা ব্রাডলি কোটেস ও মুভ ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাইফুল হক।

জরিপে দেশের ১২টি জেলার কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার ৮২৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই জরিপ করা হয়েছে। জরিপের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সংস্থাটির বক্তব্য, দেশের কওমি এবং আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কীভাবে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে সেটা জানতে এ জরিপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানা এবং তারা কী ধরনের পোস্ট দেয় বা শেয়ার করে, উগ্রবাদ, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া।

মুভ ফাউন্ডেশনের গবেষণায় বলা হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ কওমি ছাত্র এবং ৫৮ শতাংশ আলিয়ার ছাত্রছাত্রী মোবাইল ফোনে এবং ৫ শতাংশ কওমি ছাত্র ও ১০ শতাংশ আলিয়া ছাত্রছাত্রী কম্পিউটারে নেট ব্যবহার করেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারী কওমি ছাত্রীদের কেউ কম্পিউটার ব্যবহার করার সুযোগ পান না, যদিও তাদের শতকরা ৭০ ভাগ মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহার করে থাকেন। এর মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ কওমি ছাত্রীর ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী (৬৫ শতাংশ) কৌতূহল বা জানার আগ্রহ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, বিতর্ক তৈরি বা প্রশ্ন তোলার জন্য নয়। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি (৬৭ শতাংশ) ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্ম সংক্রান্ত পোস্ট দেখেন, ১১ শতাংশ বিনোদন, ১৫ শতাংশ খেলাধুলা এবং ৭ শতাংশ রাজনৈতিক বিষয়গুলো লক্ষ্য করেন।

উত্তরদাতা কওমি ছাত্রদের অর্ধেক ও ছাত্রীদের এক-তৃতীয়াংশ এবং আলিয়ার তিন-চতুর্থাংশ ছাত্রছাত্রী পোস্ট শেয়ারের আগে তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করেন। কওমি ছাত্রদের ৭ শতাংশ একেবারেই যাচাই করেন না, ২১ শতাংশ মাঝে মধ্যে করেন। আর ২১ শতাংশ বিষয়টি নিয়ে ভাবেন, কিন্তু যাচাই করেন না। ৩৩ শতাংশ কওমি ছাত্রী শেয়ার করার আগে কখনোই তথ্য যাচাই করেন না। ৩৩ শতাংশ যাচাইয়ের কথা ভাবেন, কিন্তু করেন না।

জরিপে এসেছে, কওমি ছাত্ররা ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়াবলি (৬০ শতাংশ); কওমি ছাত্রীরা ধর্মীয় শিক্ষামূলক (৫০ শতাংশ) এবং সামাজিক বিষয় সংক্রান্ত পোস্ট (৫০ শতাংশ) বেশি শেয়ার করেন। অন্যদিকে, আলিয়ার ছাত্রছাত্রীরা বেশি শেয়ার করেন ধর্মীয় শিক্ষামূলক বিষয় (৫৯ শতাংশ), তারপর ধর্ম সংক্রান্ত বিষয় (২০ শতাংশ), সামাজিক বিষয় (১৭ শতাংশ), বিনোদন ও খেলাধুলা (১৫ শতাংশ) এবং রাজনৈতিক বিষয় (৭ শতাংশ)।

অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সাইবার অপরাধ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে উগ্রবাদের প্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে আলেমদের এসব মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত। তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের কাছে আহ্বান জানান, উগ্রবাদবিরোধী কন্টেন্ট তৈরি করতে। বলেন, ‘প্রয়োজনে এ কাজে সহযোগিতা করবে সরকার।’