ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

সিনজাত রহমান সানি, ঢাবি ১০:৪২ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

print
ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

দেড় বছরের তদন্ত শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত প্রশ্ন ফাঁস মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রণয়ন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরও ৭৯ জনের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

 

বৃহস্পতিবার মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডিপ্রধান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শাহ আলম, ইমতিয়াজ আহমেদ এবং বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। সিআইডিপ্রধান বলেন, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরলস পরিশ্রম, কর্মদক্ষতা এবং সুকৌশল পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াত চক্রকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার হয় মূল হোতাসহ মোট ৪৭ জন। এদের মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

আলোচিত এ ঘটনার শুরু ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। সে রাতে গণমাধ্যম কর্মীদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ঢাবির দুটি আবাসিক হলে অভিযান চালায় সিআইডি। গ্রেফতার হয় মামুন ও রানা নামে দুই শিক্ষার্থী। তাদের দেওয়া তথ্যে পরদিন পরীক্ষার হল থেকে গ্রেফতার হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাফিকে। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রিন্টিং প্রেস থেকে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করত। ২০১৫ এবং ২০১৬, পরপর দুই বছর ফাঁসকৃত প্রশ্ন নিয়ে সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার একটি বাসায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছিল তারা। চক্রের মাস্টারমাইন্ড নাটোর জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী, প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর, তার আত্মীয় সাইফুল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ও মারুফসহ মোট ২৮ আসামিকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস চক্রটির মূলোৎপাটন করে সিআইডি।

মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, মূলত দুভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। অন্যটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করে। প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁসকারী পুরো চক্র চিহ্নিত হলেও ডিজিটাল ডিভাইস চক্রটিকে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল জালিয়াত চক্রটিকেও চিহ্নিত করা গেছে। ধরা পড়েছে চক্রের মাস্টারমাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, মূল হোতা ইব্রাহীম, মোস্তফা কামাল, হাফিজুর রহমান হাফিজ ও তাজুল ইসলাম।

গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সিআইডি প্রধান বলেন, মামলাটির তদন্ত ছিল সুবিশাল এক কর্মযজ্ঞ। এ কার্যক্রমে পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীরাও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। সবার ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় সমাজ থেকে প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাধি দূর করা সম্ভব বলেও মত দেন তিনি।

গত দেড় বছরে সিআইডির টানা অভিযান এবং একের পর এক আসামি গ্রেফতারের ফলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি-এইচএসসিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি। সামনের দিনগুলোতেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সিআইডির বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রের মূল হোতাদের অঢেল অবৈধ অর্থ-সম্পদের খবর পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিক তদন্তে প্রায় ২০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে ইতোমধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মানি লন্ডারিং মামলাও করেছে সিআইডি।

অন্যদিকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাবি এবং অধিভুক্ত সাত কলেজের ৪২ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বুধবার ঢাবি উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ঢাবির শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন-
মো. ইব্রাহিম, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মো. মোস্তফা কামাল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. মাসুদ রহমান তাজুল, মো. রিমন হোসেন, মো. মহিউদ্দিন রানা, মো. আইয়ুব আলী বাধন, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইশরাক হোসেন রাফি, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মামুন মিয়া, অসীম বিশ্বাস, মো. অনোয়ার হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মো. বাবুল, টি এম তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান সাম্য, রাফসান করিম, মো. আঁখিনুর রহমান অনিক, নাজমুল হাসান নাঈম, ফারজাদ ছোবহান নাফি, আনিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান এছামী, বনি ইসরাইল, মো. মারুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, খান বাহাদুর, কাজী মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ ইফতেখার, রিফাত হোসেন, মো. বায়জিদ, ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, তানভির আহম্মেদ মল্লিক, প্রসেনজিত দাস, মো. আজিজুল হাকিম, নাভিদ আনজুম তনয়, সালমান এফ রহমান হৃদয়, সজীব আহাম্মেদ, শিহাব হোসেন খান, এনামুল হক আকাশ, মোশারফ মোসা, মোহায়মেনুল ইসলাম বাঁধন, সাইদুর রহমান, আব্দুর রহমান রমিজ, গোলাম রাব্বী খান জেনিথ, উৎপল বিশ্বাস, বেলাল হোসেন বাপ্পী, মো. মশিউর রহমান সমীর, মো. আবু জুনায়েদ সাকিব, মোস্তাফিজ-উর-রহমান মিজান, আবুল কালাম আজাদ, শরমিলা আক্তার আশা, মাসুদ রানা, জেরিন হোসাইন, শেখ জাহিদ বিন হোসেন ইমন, তাজুল ইসলাম সম্রাট, আবির হাসান হৃদয়, মোর্শেদা আক্তার, সালমান হাবিব আকাশ, আলামিন পৃথক, শাহ মেহেদী হাসান হৃদয়, অনিকা বৃষ্টি, ফিওনা মহিউদ্দিন মৌমি, সিনথিয়া আহম্মেদ, শাবিরুল ইসলাম সনেট, মো. লাভলুর রহমান লাভলু, মো. ইছাহাক আলী ইছা, মো. আব্দুল ওয়াহিদ মিশন, তানজিনা সুলতানা ইভা, ইশরাত জাহান ছন্দা, মো. আশেক মাহমুদ জয়, নাফিসা তাসনিম বিন্তী, প্রণয় পা-ে, নুরুল্লাহ নয়ন, জিয়াউল ইসলাম, মো. আশরাফুল ইসলাম আরিফ, জাকিয়া সুলতানা, মো. শাদমান শাহ, সাদিয়া সিগমা, মো. রবিউল ইসলাম রবি, মেহেজাবীন অনন্যা, মো. রাকিবুল হাসান, এম. ফাইজার নাঈম সাগর, সাদিয়া সুলতানা এশা, সামিয়া সুলতানা এবং ফাতেমা আক্তার তামান্না।