ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা, প্রতিবাদে বুটেক্সে কর্মচারীদের মানববন্ধন

ঢাকা, সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা, প্রতিবাদে বুটেক্সে কর্মচারীদের মানববন্ধন

বুটেক্স প্রতিনিধি
🕐 ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২২

ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা, প্রতিবাদে বুটেক্সে কর্মচারীদের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রণীত অভিন্ন নীতিমালা প্রতিহত করার লক্ষ্যে বুধবার (২৯ জুন) দুপুর বারোটায় বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআবিকফ) কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইটের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) কর্মচারী সমিতি।

এসময় তারা বাআবিকফ কর্তৃক প্রণিত ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হল
১. স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন পূর্বক বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৭৩ সালের ১০ ধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ৫০% মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।

২. বাআবিকফ কর্তৃক পেশকৃত খসড়া আপগ্রেডেশন/পদোন্নতি নীতিমালা অথবা সকল পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের নীতিমালা পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ সুবিধাপ্রাপ্ত অভিন্ন নীতিমালা প্রনয়ণ করতে হবে।

৩. বাংলাদেশ সচিবালয়ের ন্যায় প্রধান সহকারী /সমমান, উচ্চমান সহকারী/সমমান পদে কর্মরত কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেল (২০০৯) ৮০০০- ১৬৫৪০ দশম গ্রেড বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪. সকল পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ এবং কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ব-স্ব বেসিক সংগঠনের প্রতিনিধিদেরকে কমিটিতে রাখতে হবে।

৫. বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনকে বাৎসরিক ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা আর্থিক অনুদান দিতে হবে।

৬. সকল পাবলিক, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা কোটা অনুসরণ করতে হবে।

৭. সকল পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের কোন কারনে সামরিক/ স্থায়ী বরখাস্ত করনের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন/শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসিক সংগঠনের প্রতিনিধি রাখতে হবে।

৮. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কল্যান শাখা কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১২৩.০৫.০০১.১৬-৭০০ তারিখঃ ২৭-০৬-২০১৬ ইং অনুযায়ী সকল পাবলিক, স্বায়ত্বশাসিত ও অধা-স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মৃত্যবরণ করলে সরকারী কর্মচারীদের ন্যায় তার পরিবার কে ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ) এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা প্রদান করতে হবে।

৯. যোগ্যতা অনুযায়ী সকল পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী ৫০% আভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১১. সকল পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

কর্মচারী সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, নতুন নীতিমালায় একজনের পদোন্নতির জন্য ঐ পদে থাকা ব্যক্তির মৃত্যু কামনা করতে হবে, সেটা না হলে পদোন্নতি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাথে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার ফেডারেশন ও কর্মচারী ফেডারেশনের সভা হয়েছিল। সভায় ইউজিসির চেয়ারম্যান আমাদের আস্বস্ত করেছিলেন যে চুড়ান্ত নির্দেশিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আগে আমাদেরকে অবহিত করবেন। কিন্তু আমাদেরকে পাশ কাটিয়েই ইউজিসি কর্মচারীদের নিয়ে অভিন্ন নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

কর্মচারী সমিতির সদস্য হেলাল মৃধা বলেন, এই নীতিমালায় কোন কর্মচারীর ১৩ তম গ্রেডের উপরে পদোন্নতি হওয়ার সুযোগ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্ররা যখন বিশ্ববিদ্যালয়েরই বিভিন্ন পদে-দপ্তরে যোগদান করার চেষ্টা করছে ঠিক তখনই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অভিন্ন নীতিমালা নামক একটি প্রহসন আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা এ প্রহসন মানি না। আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রণীত সেই ৭৩ এর এক্ট বলবৎ চাই।

 
Electronic Paper