‘শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল’

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ | ১১ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল’

নাহিদুজ্জামান নাহিদ, বেরোবি
🕐 ৪:২১ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২২

‘শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. এস. এ. মালেক।

গতকাল শনিবার (২১ মে) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ বঙ্গবন্ধু পরিষদ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ডা. এস. এ. মালেক বলেছেন, “শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দেশের চেহারা পাল্টিয়ে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা এই দেশে প্রত্যাবর্তন না করলে এদেশে গণতন্ত্র আসতো না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতো না। আজকে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী, সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসিতে ঝোলানো শেখ হাসিনার পক্ষে ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব ছিলো না। দেশে সুশাসন ফিরে আসতো না। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হতো না।”

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার জন্যই এদেশে গণতন্ত্র উন্নয়ন অগ্রগতি সবকিছুই সম্ভব হয়েছে। আর কয়েকদিন পরেই আমাদের অহংকার, আমাদের গর্বের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষজন বুঝবে কিভাবে তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে পরিবর্তন করে অগ্রগতির পথে এবং রাজধানীর সাথে বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন করে কিভাবে সার্বিকভাবে দেশের উন্নত অর্থনীতি কাঠামো তৈরি করা যায়। আজকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মানুষেরা আশায় বুক বাঁধছে আজকে শেখ হাসিনার কারণেই আজকে তারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।”

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মাথা পিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও বিদ্যুৎ যোগাযোগসহ সর্বক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে তিনি বিশ্বব্যাপী ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ উপাধি পেয়েছেন। বিভিন্ন ইতিবাচক কাজের জন্য পেয়েছেন প্রচুর প্রশংসা ও উপাধি। শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন, বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে আগামীর পথে।”
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক বলেন, “শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে ফিরিয়ে এনেছেন।

যে দেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চর্চা করা যেত না, মুক্তিযুদ্ধের নাম উচ্চারণ করলে বিভিন্ন হয়রানি সহ্য করতে হতো সেই দেশকে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছেন সম্মান।”

ডা. এস. এ. মালেক বলেন, “আগে মানুষ মুখে মুখে বলতো কখন বিদ্যুত আসবে আর আজকে দেশের মানুষজন ভুলে গেছে বিদ্যুত কখন যাবে। শেখ হাসিনা এদেশে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এনেছে যা বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশ তা করতে পারেনি। এসব উন্নয়ন একমাত্র শেখ হাসিনাকে দিয়েই সম্ভব।”

বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা গণতন্ত্রের পথে আসেন, আপনারাও এদেশের নাগরিক, আপনারা বিরোধী দল করছেন ঠিক আছে কিন্তু অসাম্প্রদিকত রাজনীতি, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা মেনে চলুন, বাংলাদেশের দর্শনে বিশ্বাস করুন। আপনারা বাংলাদেশের দর্শনে বিশ্বাস করবেন না, আপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করবেন না, আপনারা জয় বাংলা স্লোগানকে বিশ্বাস করবেন না, তাহলে কিভাবে জনগণের ভোটে পাবেন।”

খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ৫ হাজার সদস্যের একটি দল পরিচালনা করতে পারেনা সে কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে। এখনই তো দেখা যায় বিএনপি তার নেতৃত্ব মানে না, তারেক রহমানের কথায় চলে। কামাল হোসেনসহ অন্যান্যদের ভাড়া করে এনে শেখ হাসিনাকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। পারলে গণতান্ত্রিক উপায়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যূত করে দেখান। এমন অগণতান্ত্রিক উপায়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইলে এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতা বিএনপি ও জামায়াত শিবিরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।”

ৎবিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে বিস্তার আলোচনা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহামুদুল হক। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

 
Electronic Paper