অগ্নি-সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত হোক

ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ | ৪ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

অগ্নি-সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়
🕐 ১২:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২১

অগ্নি-সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত হোক

আগুন যেন পিছু ছাড়ছে না পুরান ঢাকার! এত মৃত্যু, এত সম্পদহানি, এত অশ্রু ঝরছে তবুও কেন বন্ধ হচ্ছে না আগুনের লেলিহান শিখা! পুরান ঢাকায় আবার আগুন লাগায় নড়েচড়ে বসছেন সংশ্লিষ্টরা। আরমানিটোলার খেলার মাঠসংলগ্ন হাজী মুসা ম্যানশনের নিচতলায় রাসায়নিকের গুদামে আগুন লেগে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়ে এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে সেখানকার ২০ জন বাসিন্দা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন। পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে নতুন ঘটনা নয়। ২০১০ সালের জুন মাসে নিমতলীতে রাসায়নিকের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৯ সালের চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটে। এতে ৭০ জন নিহত হন। আহত হন অনেকেই।

বিভিন্ন সময়ই পুরান ঢাকার কারখানাগুলোতে ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু ঘুম ভাঙে না কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন সময়ই পুরান ঢাকার এসব রাসায়নিক গুদামে দাহ্য রাসায়নিক মজুদ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজও তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরান ঢাকার বংশাল, আরমানিটোলা, বাবুবাজার, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য কেমিক্যালের দোকান ও গোডাউন। অধিকাংশ গোডাউন নিচতলা ও দোতলায়। এসব ভবনের উপরের তলাগুলোতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আগুন লাগার আশঙ্কা নিয়ে বসবাস করে আসছেন তারা। হাজী মুসা ম্যানসন নামে ওই ভবনে থাকা কেমিক্যাল গোডাউনের লাইসেন্স দেয়নি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। তবে সিটি করপোরেশন তাদের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে কিনা বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন।

সরেজমিন গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভবনের নিচতলা ও দোতলায় রাসায়নিক কেমিক্যালের কন্টেইনার আগুনে গলে পড়ে আছে। এসব কেমিক্যাল উচ্চমাত্রার দাহ্য বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। ভবনটির ছয়তলা পর্যন্ত কালো ধোঁয়ার ছাপ স্পষ্ট। ভবনের সামনের বারান্দার প্রতিটি গ্রিল কাটা। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রিলগুলো কেটে বাসিন্দাদের উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হাজী মুসা ম্যানশনের আগুন নেভানোর সময় তারা এমন সব দাহ্য কেমিক্যাল পেয়েছেন, যা সেখানে মজুদ রাখা বা বিক্রি করার কোনো অনুমতিই নেই। পুরান ঢাকার বিভিন্ন বহুতল ভবনেই নিচতলায় কেমিক্যালের গোডাউন অথবা দোকান ভাড়া দিয়ে উপরে মানুষ বসবাস করে। যা একটি মৃত্যুকূপে বসবাস করা ছাড়া আর কিছুই না।’

বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক নুরুল আক্তার দাবি করেন, তারা সরকারের নির্দেশনা মেনেই এখানে ব্যবসা করছেন। কোনো ধরনের দাহ্য রাসায়নিক তারা মজুদ রাখেন না। তিনি বলেন, ‘মিটফোর্ডসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ১২০০ কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে শিল্প পার্কে জায়গা চেয়ে আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও জায়গা বরাদ্দ পাইনি।’ পুরান ঢাকাসহ সব এলাকাকেই অগ্নি সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সরকারসহ সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি।

 
Electronic Paper