আবার দেখা হবে বন্ধু...

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

আবার দেখা হবে বন্ধু...

আবু বকর রায়হান ৩:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০২০

print
আবার দেখা হবে বন্ধু...

ভয়াল করোনার থাবায় থমকে গেছে সবকিছু। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাসে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। একসঙ্গে ক্লাস, গল্প, আড্ডায় মেতে থাকা সহপাঠীরা আজ বহুদূরে। এইতো কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে পা রাখার চার বছর উদযাপন করল তারা। কে জানত এত তাড়াতাড়ি করোনা তাদের দূরে ঠেলে দেবে। বলছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কথা। 

২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন তিনজন শিক্ষকের এক বুক ভালোবাসা নিয়ে প্রথম ক্লাস শুরু তাদের। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি তারুণ্যের ছোঁয়া লাগা ৪৮ তরুণ-তরুণীকে। দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা সহপাঠীদের আপন করে নিতে সময় লাগেনি তাদের। কয়েকদিনের ব্যবধানে আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ক্লাসের অবসরে কিংবা ক্যাম্পাস আড্ডায় গাঢ় হতে থাকে বন্ধুত্ব। কখনো দলবেঁধে ব্যাচ ট্যুর আবার কখনো সামাজিক বনে পিকনিক এভাবেই চলতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। তবে করোনার কারণে মাঝপথেই সব থেমে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রায় ৫ বছর হতে চললেও এ মহামারীর কারণে আটকে আছেন তারা।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্কুল জীবন শেষ করে কিশোরগঞ্জ থেকে কলেজ পাস করেছেন ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাব। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছু কেমন যেন হয়ে গেছে।’
প্রথম যখন কুমিল্লায় আসি, বাড়ি থেকে এত দূরে হওয়ায় খারাপ লাগত। সময়ের ব্যবধানে কখন যে সবাই এত আপন হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি।’ এভাবেই তিনি বলছিলেন তার দ্বিতীয় পরিবার বিভাগের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর কেটে যাওয়া সময়টাতে বন্ধুদের সঙ্গে মিশে নিজেকে নতুন করে পেয়েছেন বলে ধারণা প্রথম ব্যাচের আরেক ছাত্রী ফেনীর মেয়ে সুমাইয়া সামির।

জীবনটাকে নিয়ে একটু ভিন্ন ভাবে ভাবতে শেখা এ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফরহাদুর রহমানের বাড়ি গাজীপুরে। তার ভাষায়, ‘প্রথম ব্যাচের সদস্য হওয়াটা আসলেই সৌভাগ্যের। যদিও শুরুর দিকে না পাওয়ার অনেক অতৃপ্তি থাকে তবে দিন গেলে সেটা আর থাকে না। ৫ ব্যাচ মিলে এখন আমরা পরিপূর্ণ এক পরিবার। শিক্ষকদের শেখানোর আগ্রহ ও আন্তরিকতা আর সহপাঠীদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কে আবদ্ধ এ পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর পড়ার পর শুধু সাংবাদিকতার পড়ার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন আরেক মেধাবী মুখ কুতুব উদ্দিন।

তিনি বলছিলেন, চট্টগ্রাম ছেড়ে কুমিল্লা পড়তে যাওয়ার শুরুতে একটু খারাপই লেগেছিল। ধীরে ধীরে এ পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসায় নতুন একটি পরিবার পেয়েছি। মানবিক সাংবাদিকতা শিখে দেশ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার উদ্দেশ্য।

সময়ের সঙ্গে বড় হচ্ছে বিভাগ। নতুন চারজন শিক্ষকসহ বর্তমানে সাত জন শিক্ষকের ভালোবাসায় চলছে বিভাগের কার্যক্রম। বিভাগে এখন পাঁচ ব্যাচ। করোনার এ সঙ্কট সবসময় থাকবে না। একসময় বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। আবারও আড্ডা গানে মেতে উঠবে সবাই। সময়ের ব্যবধানে বিদায় নেবে প্রথম ব্যাচ।