উত্তর লেখার নিয়মকানুন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

এইচএসসি

উত্তর লেখার নিয়মকানুন

আজাদুর রহমান ২:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

print
উত্তর লেখার নিয়মকানুন

হাতের লেখা
সুন্দর হাতের লেখা একটি সম্পদ। আবার হাতের লেখা সুন্দর হলেও যদি স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন না হয় তবে নম্বরও কম ওঠে। তাই শব্দের এবং লাইনের মধ্যে ফাঁক রেখে পরিচ্ছন্ন করে লিখতে হবে। যাতে সহজে পড়া যায়। কোনো শব্দ, লাইন বা অনুচ্ছেদ কেটে দিতে হলে হিজিবিজি করে নয় এক টানে পরিষ্কার করে কাটতে হবে। ভুল শব্দ বা বাক্যাংশের ওপর লিখে সংশোধন করলে খাতাটি নোংরা হয়ে ওঠে তাই এটি কখনই করবে না। এ ক্ষেত্রে কেটে দিয়ে ওপরে বা পাশে ঠিক শব্দ বসাবে।
সঠিকভাবে প্রশ্নের নম্বর দেয়া

প্রশ্নের নম্বরটি বাঁ দিকে নির্ভুলভাবে অবশ্যই বসাবে। একটি প্রশ্নের মধ্যে নানা অংশ থাকতে পারে। পৃথক প্রশ্নের উত্তর পৃথক অনুচ্ছেদে লেখা উচিত। আবার অনেক প্রশ্নেই (ক), (খ) অংশ থাকে। এ ক্ষেত্রে সেভাবে (ক), (খ) নম্বর লিখে তবেই উত্তর দেবে। যেমনÑ ১নং প্রশ্নের ‘ক’ এর উত্তর।

সঠিক বানান
উত্তরের সময় বানান অনেকেই ভুল করে। কাজেই সতর্কতা দরকার। যেসব বানান সচরাচর ভুল হয় সেগুলো বেশি করে অনুশীলন দরকার। বিখ্যাত আর পরিচিত নামের বানান যেন ঠিক থাকে। কবিদের নামের বানান ভুল করলে পরীক্ষক বিরক্ত হবেন। এতে তোমার নম্বরও কমে যেতে পারে। তোমার পাঠ্যবইয়ের গদ্য, সহপাঠের নাম এবং লেখকের নাম যেন ভুল না হয়।

কিছু যেন বাদ না যায়
একটি প্রশ্নের সব অংশ জানা না থাকলেও কোনো প্রশ্নের উত্তর ছেড়ে আসবে না। না পারলেও যতটা পারা যায় চেষ্টা করে লিখে আসবে। ব্যাখ্যাটা পারা যাচ্ছে না, কার লেখা, কোন গল্প থেকে এসেছে তা লিখলে দু-এক নম্বর মিলে যাবে। কোনো কোনো প্রশ্নের মধ্যে নানা অংশ থাকে। তার কোনো অংশ যেন বাদ না যায়।

ছক দেওয়া, চিত্র আঁকা
প্রশ্নের প্রয়োজনে যখনই পারবে ছক কিংবা চিত্র এঁকে তোমার উত্তরের গুণমান বাড়াবে, অবশ্য তাড়াতাড়ি আঁকার অভ্যাস থাকলেই এ কাজ পারবে। এতে করে বেশি নম্বর আসবেই। পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানের ছবি অবশ্যই দেবে। গণিতে উপপাদ্য ও সম্পাদ্যে নিখুঁতভাবে চিত্র অঙ্কন করবে। অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় ছক দেবে।

রিভিশন দেওয়া
পরীক্ষায় রিভিশন দেওয়ার জন্য অবশ্যই সময় রাখবে। যদি সময় করে পুরো খাতার রিভিশন করা যায়, খুব ভালো হয়। বেশ কিছু ভুল তাতে সেরে নেওয়া যাবে। গণিতের ক্ষেত্রে এরকম রিভিশন অবশ্যই জরুরি। কারণ, সামান্য একটি অক্ষর বা সংখ্যার জন্য সম্পূর্ণ নম্বরই কাটা যেতে পারে।

গণিতের রাফ কাজ
গণিতের ক্ষেত্রে খাতার বাঁ পাশের পাতায় রাফ কাজ, হিসাবপত্র করতে হয়। রাফ কাজ শেষে সঠিকভাবে তোলার পর দুটি কোনাকুনি দাগ টেনে কেটে দেবে। অন্য বিষয়েও যখনই রাফ কাজ করবে, তা খাতাতেই করে পরিষ্কারভাবে কেটে দেবে।

টেনশন করবে না
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো পরীক্ষায় ঘাবড়ে না গিয়ে টেনশন না করে শান্তভাবে পরীক্ষা দেবে। তা না হলে জানা ও ভালোভাবে পড়া প্রশ্নের উত্তরও এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দেবে।

আজাদুর রহমান, প্রভাষক
ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা।