পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

বাংলা

নাহিদ সুলতানা ২:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

print
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

রচনা : প্রিয় ঋতু/বর্ষাকাল
ভূমিকা : বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। এ দেশের প্রকৃতিতে ১২ মাসে ছয়টি ঋতু রূপের পসরা সাজিয়ে আসে। বর্ষাকাল এই ঋতুচক্রের দ্বিতীয় ঋতু। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে শুকনো ধরনীকে সিক্ত করে বাংলার বুকে বর্ষার শুভ আগমন ঘটে।

বর্ষার সময়/কাল/স্থায়িত্ব/আগমন : আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। কিন্তু বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয় বৈশাখ থেকে, চলে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত। গ্রীষ্মের প্রচ- খরতাপে অতিষ্ঠ মানুষ যখন গেয়ে ওঠে : ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে...’
তখন বর্ষার ধারা পৃথিবীতে বয়ে আনে প্রশান্তি ও শীতলতা। মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা, পশুপাখি সব যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। গাছপালা আর ফসলের ক্ষেত সবুজ হয়ে ওঠে। নদীনালা, খাল-বিল, মাঠ-ঘাট পানিতে ভরপুর হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় :
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদে এলো বান।
কেন প্রিয় : বর্ষার আগমনে গ্রীষ্মের বিবর্ণ প্রকৃতি হয়ে ওঠে কোমল আর সজীব। চারদিকে জেগে ওঠে প্রাণের স্পন্দন। টিনের চালে রিমঝিম বৃষ্টির নৃত্যে মুখরিত হয় গ্রামবাংলা। এ সময় কদম, টগর কেয়া, বেলী, জুঁই, চাঁপা প্রভৃতি ফুলের সুবাসে চারপাশ সুরভিত হয়ে ওঠে। আর বিলে-ঝিলে দেখা মেলে শাপলা-শালুক ফোটার অপূর্ব দৃশ্য। বর্ষাকালের উল্লেখযোগ্য ফলগুলো হলোÑ আনারস, আমড়া, পেয়ারা প্রভৃতি।
বর্ষার উপকারিতা : বর্ষাকাল বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনে অপার সম্ভাবনার বার্তা। কৃষিনির্ভর এ দেশের চাষাবাদ অনেকটাই বৃষ্টিনির্ভর। পরিমিত বৃষ্টিপাত এ দেশে প্রচুর ফসল ফলাতে সহায়তা করে। অনাবৃষ্টি ও খরায় বাংলাদেশের কৃষি ভেঙে পড়ে। বর্ষাকালে একদিকে অর্থকরী ফসল পাট কৃষকের ঘরে আসে, অন্যদিকে এটি আউশ ধানের মৌসুম। এ সময় আমড়া প্রচুর মাছ পেয়ে থাকি। বর্ষার সময় নৌকাযোগে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত খুব সহজ হয়।
বর্ষার অপকারিতা : পরিমিত বৃষ্টি যেমন এ দেশের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি অতি বৃষ্টি এ দেশের জন্য হয়ে ওঠে অভিশাপ। গ্রামাঞ্চলে অতি বৃষ্টির ফলে নদীভাঙনে বহু মানুষ গৃহহারা হয়। কৃষকের ফসলের জমি পানিতে ভেসে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। টানা বর্ষণের ফলে দরিদ্র, দিনমজুর ও খেটে-খাওয়া মানুষ কাজে যেতে পারে না। ফলে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। একটানা বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বাজ পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে শিশু থেকে বৃদ্ধ।
কবিগুরুর ভাষায় :
‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহিরে
ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’
উপসংহার : বর্ষাকাল বাংলাদেশের আনন্দ-বেদনার এক ঋতু। এ দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে একাকার হয়ে মিশে আছে বর্ষাকাল। এ দেশের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি কৃষি অনেকাংশে বর্ষার কাছে ঋণী। বর্ষার সতেজ প্রকৃতি যেমন মানুষের মনকে অনুরণিত করে, তেমনি কর্মব্যস্ত মানুষগুলো এ সময় নির্মল বাতাসে প্রাণ জুড়াতে পারে। তাই বর্ষাকাল আমার প্রিয় ঋতু।

নাহিদ সুলতানা, সহকারী শিক্ষক, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা।