এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয়পত্র

শায়ের খান ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২০

print
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে খ, গ এবং ঘ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই সংশোধনী মোতাবেক, একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনধিক ১০ উপদেষ্টার দ্বারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হয়

বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনসমূহ

অষ্টম সংশোধনী : অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুরে হাইকোর্ট বিভাগের একটি করে
স্থায়ী বেঞ্চ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। হাইকোর্ট বিকেন্দ্রীকরণের বিধানটি পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বাতিল করে দেয়। ১৯৮৮ সালের ৭ জুন অষ্টম সংশোধনী গৃহীত হয়।

নবম সংশোধনী : নবম সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে উপরাষ্ট্রপতিকে মনোনয়ন দিতেন। এ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। রাষ্টপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একই তারিখে ভোট গ্রহণের কথা বলা হয়।

দশম সংশোধনী : নারী সংসদ সদস্যদের সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের ৩০টি মহিলা আসন পুনঃরায় সংরক্ষণের বিধান করা হয়। একইসঙ্গে রাষ্টপ্র তির পদের মেয়াদ শেষ হবার ১৮০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান করা হয়। ১৯৯০ সালের ১০ জুন নবম সংশোধনী গৃহীত হয়।

একাদশ সংশোধনী : এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের স্বপদে ফিরে যাওয়ার
সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই সংশোধন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এরশাদ কর্তৃক উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগদানকে বৈধতা দেয়া হয়। সংবিধানের একাদশ সংশোধনী ১৯৯০ সালের ২ জুলাই গৃহীত হয়।

দ্বাদশ সংশোধনী : সংবিধানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংশোধনী দ্বাদশ সংশোধনী। এ সংশোধনীর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের সামরিক, ছদ্ম সামরিক শাসন হতে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা শুরু করে। গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ এ সংশোধনীকে বৈধতা ও অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়। জাতীয় সংসদে ১৯৯০ সালের ৬ আগস্ট এ সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

ত্রয়োদশ সংশোধনী : এই সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে খ, গ এবং ঘ ধারা সংযোজনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই সংশোধনী মোতাবেক, একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনধিক ১০ জন উপদেষ্টার দ্বারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়।

চতুর্দশ সংশোধনী : এই সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে ৪৫টি মহিলা আসন সংরক্ষণ করা হয়।

জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের সমানুপাতে এসব আসন বণ্টনের বিধান করা হয়। চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে একই সঙ্গে বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের অবসরের সময়সীমা ২ বছর বাড়ানো হয়।

শায়ের খান
প্রভাষক, একেএম রহমত
উল্লাহ কলেজ, ঢাকা।