বাংলা দ্বিতীয়পত্র ব্যাকরণ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

এইচএসসি ২০২০

বাংলা দ্বিতীয়পত্র ব্যাকরণ

আব্দুর রহমান ৪:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২০

print
বাংলা দ্বিতীয়পত্র ব্যাকরণ

সমাস একটি সংস্কৃত শব্দ। এর অর্থ একাধিক পদের একপদে মিলন, সংকোচন বা সংক্ষেপণ। পরস্পর অর্থসংগতিপূর্ণ দুই বা ততোধিক পদ মিলে এক পদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে

প্রশ্ন : বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের যেকোনো পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর : বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ এখানে আলোচনা করা হলো : ১। সব অতৎসম শব্দের বানানে ই-কার হবে। যেমনÑইংরেজি, আরবি, বাঙালি ইত্যাদি।

২। সব অতৎসম শব্দের বানানে উ-কার হবে। যেমনÑপুজো, মুলা, পুব ইত্যাদি।
৩। রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমনÑকর্ম, ধর্ম, কার্য ইত্যাদি।
৪। বিশেষণ পদ সাধারণত পরবর্তী পদের সঙ্গে যুক্ত হবে না। যেমনÑনীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফুল ইত্যাদি।
৫। শব্দের শেষে বিসর্গ থাকবে না বা বর্জিত হবে। যেমনÑমূলত, প্রধানত, কার্যত ইত্যাদি।

প্রশ্ন : বাংলা একাডেমি প্রণীত তৎসম শব্দের বানানের যেকোনো পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা একাডেমি প্রণীত তৎসম শব্দের বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো :
১। রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমনÑধর্ম, কর্ম, মর্ম ইত্যাদি।
২। শব্দের শেষে বিসর্গ থাকবে না বা বর্জিত হবে। যেমনÑপ্রধানত, মূলত, কার্যত ইত্যাদি।
৩। যেসব তৎসম শব্দের বানানে ই, ঈ বা উ, ঊ উভই শুদ্ধ, সেসব শব্দের বানানে ই বা উ এবং তার কারচিহ্ন হবে। যেমনÑপল্লি, শ্রেণি, সরণি ইত্যাদি।
৪। সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পূর্বপদের অন্তস্থিত ম এর স্থানে অনুস্বার হবে। যেমনÑঅহম্+কার=অহংকার, সম্+গীত=সংগীত ইত্যাদি।
৫। ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ত্ব ও তা প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে। যেমনÑকৃতী-কৃতিত্ব, সহযোগী-সহযোগিতা ইত্যাদি।
যুক্ত হবে না। যেমন- নীল পদ্ম, লাল গোলাপ, সবুজ মাঠ ইত্যাদি।

প্রশ্ন : সমাস কাকে বলে? বাংলা ভাষায় সমাসের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।
উত্তর : সমাস : সমাস একটি সংস্কৃত শব্দ। এর অর্থ একাধিক পদের একপদে মিলন, সংকোচন বা সংক্ষেপণ। পরস্পর অর্থসংগতিপূর্ণ দুই বা ততোধিক পদ মিলে এক পদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে। যেমনÑ সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। বাংলা ভাষায় সমাসের প্রয়োজনীয়তা : বাংলা শব্দ গঠনে সমাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বক্তব্যকে সংক্ষেপ করার মাধ্যমে ভাষার সৌন্দর্য ও মাধুর্য বৃদ্ধি করে সমাস। বাক্যের মধ্যে অনাবশ্যক পদের ব্যবহার না করে সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহারের মাধ্যমে বক্তব্য বিষয়টিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়। ফলে ভাষা হয় সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর ও প্রাঞ্জল। যেমনÑ‘চার রাস্তার সমাহার’ না বলে ‘চৌরাস্তা’ বললে তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও শ্রুতিমধুর হয়।
নিচে সমাসের প্রয়োজনীয়তা সহজভাবে আলোচনা করা হলো :
১। সমাস বাক্যের অর্থ সাবলীল ও সহজ করে তোলে।
২। গুরুগম্ভীর ভাবধারাকে যথার্থভাবে প্রকাশে সমাসবদ্ধ পদ ব্যবহৃত হয়।
৩। নতুন শব্দ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ।
৪। অল্প কথায় বেশি ভাবকে প্রকাশের জন্যও সমাসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
৫। সহজভাবে উচ্চারণে সমাস সহায়তা করে ও ভাষাকে প্রাঞ্জলতা দান করে।
৬। সমাস ভাষায় অর্থদ্যোতনার সৃষ্টি করে বৈচিত্র্যময় দ্যোতনা এনে দেয়।
৭। সর্বোপরি ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল করাই সমাসের কাজ।
বক্তব্যকে সংক্ষেপ করার মাধ্যমে ভাষার সৌন্দর্য ও মাধুর্য বৃদ্ধি করে সমাস। বাক্যের মধ্যে অনাবশ্যক পদের ব্যবহার না করে সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহারের মাধ্যমে বক্তব্য বিষয়টিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়

আব্দুর রহমান
সহকারি অধ্যাপক
একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ, ঢাকা।