পড়াশোনায় মানসিক চাপ নেবে না

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পড়াশোনায় মানসিক চাপ নেবে না

আবিদ হোসেন ১:৫৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০১, ২০২০

print
পড়াশোনায় মানসিক চাপ নেবে না

বিশ্বায়নের এ সময়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব নিজেকে এগিয়ে না রাখতে পারলে সফলতার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ভালো একটা একাডেমিক রেজাল্ট করতে হলে প্রয়োজন নিজেকে নিয়ে কঠিন এক পরিশ্রমে ও দীর্ঘ অনুশীলন ও অধ্যবসায়ে নিমগ্ন হওয়া।

কাজটা যতটা কঠিন মনে করে শিক্ষার্থীর আসলেই কি ব্যাপারটা এতটা কঠিন? এ প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আরও খোলামেলা বিশ্লেষণ করে দেখে নিতে হবে সবার আগে। অধ্যবসায় মগ্ন হয়ে শুধু পড়েই গেলে কিন্তু খানিক বা কয়েকদিন পরই সব ভুলে গেলে তাহলে যে সময়টা খরচ হলো তার প্রাপ্তিটা কি? তেমন কিছুই না। তাই পড়াগুলো ভালোভাবে মনে রাখার কৌশলটা জানা থাকা প্রয়োজন। 

পড়ার সময়টা বেছে নেয়া খুব জরুরি। কখন কোন বিষয়টি নিয়ে পড়লে আয়ত্ত করে সুবিধা হয় তা ভেবে ঠিক করে নেয়া। সকাল হচ্ছে উত্তম সময় পড়ালেখা মনে রাখার। প্রথমে সম্পূর্ণ বিষয়টি এক বার বা দুই বার মনোযোগ সহকারে পড়া। তারপর আস্তে আস্তে বোঝার চেষ্টা কর। যে বিষয়টি নিয়েই পাঠ শুরু কর না কেন বিষয়টি কি তা বুঝে উঠাটা সবচেয়ে জরুরি। পাঠটি ভালোভাবে অনুধাবন না করতে পারলে মনে রাখা যায় না।

যদি কোন পাঠ বুঝতে সমস্যা থাকে তাহলে সে সমস্যাটা সমাধান করে নিয়ে পড়লে অনায়াসে তা আয়ত্ত করা যায়।

প্রতিদিন অনুশীলন চালিয়ে না গেলে কোন সহজ বিষয়ও মনে থাকে না। অল্প করে হলেও একটা রুটিন মেনে প্রতিদিনের পাঠগুলো নিয়মিত পড়তে থাকলে এ চর্চা মনে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শব্দহীনভাবে পড়ার চেয়ে শব্দ করে পড়া মনে থাকে বেশি। যখন তুমি শব্দ করে পড়ছো তখন তুমি যা পড়ছো সেটিই আবার শুনতে পাচ্ছোÑ এতে করে বিষয়টার প্রতি বা যে পাঠটি নিচ্ছিলে সেটি অনেক ভালোভাবে তোমার স্মৃতিকে আকর্ষণ করে এবং স্মৃতিতে তা থেকে যায়।

ঘুমের সময় বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুযায়ী নির্ধারণ কর। পড়তে মন না বসলেও অনিচ্ছা সত্ত্বেও পড়তে বস। অনেক সময়ই দেখা যায় পড়ার প্রতি প্রবল এক অনীহা কাজ করতে থাকে।

পড়ার টেবিলে বসতে একেবারেই মন চায় না। এভাবে বেশি সময় ধরে চলতে থাকলে ব্যাপারটা একটা স্থায়ী প্রভাব তৈরি করে। তাই কোন কোন সময় ভাল না লাগলেও নিয়মিত পড়াশোনা করার যে রুটিন সেটি ভঙ্গ না করাই ভালো।

এতে করে অনুশীলনের অভ্যাসটা থেকে যায়। আর নিয়মিত পাঠ মনে রাখতে সহায়ক হয়। পড়ার রুটিনটা এমনভাবে সাজাতে হবে যেন অতিরিক্ত রাত করে ঘুমাতে না যেতে হয়। ঘুম একটা প্রয়োজনীয় ব্যাপার।

বেশি বেশি রাত জাগলে স্মৃতি সংকট দেখা দেয় এবং সহজ বিষয়গুলোও ভুল হয়ে যায়। তাই রাত জাগার চেষ্টা না রাখাই ভালো।
নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট হালকা শরীর চর্চা করা।

শরীর ভালো থাকলে মানসিকভাবে সুস্থির থাকা যায় এবং স্থির একটা মন নিয়ে পড়া শুরু করলে ভালো ফলাফল কেবল সময়েরই ব্যাপার।
নিয়মিত শরীর চর্চা কর, এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।

এমন একজন বন্ধু নির্বাচন করো যার সঙ্গ তোমাকে প্রতিনিয়ত বুদ্ধির কসরত করতে উৎসাহিত করবে।

নিজেকে সব সময় ওইসব কাজের মাঝে ব্যস্ত রাখো যে ক্রিয়াশীলতা তোমার বুদ্ধিমত্তাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সহায়ক হবে।

মানসিক কোন চাপ নেবে না। মানসিকভাবে অস্থিরতা তোমাকে শারীরিকভাবেও অসুস্থ করে রাখবে। এতে করে পড়াশোনায় তুমি দিন দিন পিছিয়ে পড়বে। কোন বিষয়ই তুমি স্বাভাবিক মনোযোগ নিয়ে পড়তে পারবে না।

আবিদ হোসেন