পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

বাংলা

মারুফ হোসেন ৫:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

print
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

বাংলা : রচনা আধুনিক জীবনে কম্পিউটারের গুরুত্ব
ভূমিকা : আধুনিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি হিসেবে খ্যাত কম্পিউটার। এটি বিজ্ঞানের এক বিস্ময়। কম্পিউটার অর্থ গণনাকারী। সাধারণত যে যন্ত্রের সাহায্যে গণনা করা যায় তাকে কম্পিউটার বলে।

কম্পিউটার পরিচিতি : কম্পিউটার (Computer) শব্দটি ইংরেজি হলেও এর উৎপত্তি ল্যাটিন ভাষা থেকে। ল্যাটিন Compute শব্দের অর্থ গণনা করা, আর Computer শব্দটির অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। এক কথায় কম্পিউটার হলো গণকযন্ত্র। বস্তুত কম্পিউটার হচ্ছে এমন এক ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা একসঙ্গে স্বল্পতম সময়ে বিশাল সংখ্যায় তথ্য ও উপাত্ত গ্রহণ, সংরক্ষণ, ফলাফল বিশ্লেষণ ও প্রদর্শন করতে সক্ষম।

কম্পিউটার আবিষ্কার : Computer শব্দটি ১৯৬৪ সালে বিখ্যাত অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। বিখ্যাত গণিতবিদ ব্লেইজ প্যাসকেল ১৬৬২ সালে সর্বপ্রথম যোগ-বিয়োগ করতে সক্ষম এক ধরনের যান্ত্রিক গণকযন্ত্র উদ্ভাবন করেন।

এরপর ১৬৭১ সালে গুণ-ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন গণকযন্ত্র আবিষ্কার করেন গনড্রাইড লেবনিজ। ১৮৩২-৩৪ সালের মধ্যে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ আধুনিক ইলেট্রনিক গঠনতন্ত্র প্রস্তুত করেন। এটিই ছিল মূলত আধুনিক কম্পিউটারের মূল ভিত্তি। সেজন্য চার্লস ব্যাবেজকেই কম্পিউটারের জনক বলা হয়। কম্পিউটারের প্রকারভেদ : কার্যক্ষমতা অনুসারে কম্পিউটার দু-প্রকার।

যথা - ১. সুপার কম্পিউটার ২. মেইন ফ্রেম কম্পিউটার। কার্যপদ্ধতির সিগন্যাল অনুসারে কম্পিউটার আবার তিন প্রকার। যথা- ১. এনালগ কম্পিউটার ২. ডিজিটাল কম্পিউটার ৩. হাইব্রিড কম্পিউটার।

আধুনিক সভ্যতা ও কম্পিউটারের ব্যবহার : আধুনিক সভ্যতার প্রতিটি কাজে এখন কম্পিউটার একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যোগাযোগ, পরিবহন, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিক্ষা, ওষুধ, চিকিৎসা বিজ্ঞান, গবেষণা, মহাকাশ গবেষণা, হিসাব নিকাশ ইত্যাদি কম্পিউটার ছাড়া অচল। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নিখুঁত ফলাফলের জন্য বর্তমানে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। বড় বড় কলকারখানা পর্যন্ত এখন কম্পিউটার পরিচালনা করে থাকে। কম্পিউটারের স্মৃতিতে অনেক তথ্য সঞ্চয় করে রাখা যায়।

কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা : কম্পিউটার শিক্ষা ছাড়া আধুনিক সভ্যতা বিনির্মাণ অসম্ভব। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কম্পিউটার শিক্ষা না থাকলে কর্মক্ষেত্রে অদক্ষ বলেই বিবেচিত হয়।

নিচে কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার দিকগুলো তুলে ধরা হলো- ১. ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে প্রযুক্তির কল্যাণকর সুবিধা প্রাপ্তি ২. কর্মক্ষেত্রে শ্রম ও ক্লান্তির বোঝা লাঘব। ৩. সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্র বৃদ্ধি। ৪. ই-কমার্সের কারণে অর্থনৈতিক সহজীকরণ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্র বৃদ্ধি ৫. সফটওয়্যার বাণিজ্যের সম্ভাবনা সৃষ্টি ৬. তথ্য ও উপাত্ত সংরক্ষণের নিরাপদ ক্ষেত্র ৭. টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিমেডিসিন, প্রোগ্রামিং, পণ্য বিপণন প্রভৃতির বিস্তার সাধন প্রভৃতি।

বাংলাদেশে কম্পিউটার শিক্ষা : বাংলাদেশে প্রথম দিকে বেসরকারি উদ্যোগে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা চালু হয় নব্বইয়ের দশকের দিকে। ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কম্পিউটার বিভাগ চালু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ বিভাগ খোলে ১৯৯২ সালে। পরবর্তীকালে সরকার এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিআইটি, পলিটেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার শিক্ষা চালু করে। ১৯৯১ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে ও ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিকে কম্পিউটার কোর্স পাঠ্যভুক্ত করা হয়।

উপকারিতা : কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞান জগৎকে নানাভাবে সাহায্য করছে। আধুনিক জগতে খবরাখবর লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কম্পিউটার ব্যবহার হচ্ছে। রেডিও, টেলিভিশন, টেলিফোন শিল্পে মনিটরিং ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

অপকারিতা : কম্পিউটার শুধু যে উপকারই করছে তা নয়, এর অপকারিতাও আছে।

উপসংহার : কম্পিউটার আধুনিক যুগের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি, এক মহান আশীর্বাদ। এর কল্যাণেই অদূর ভবিষ্যতে প্রযুক্তিকে আরও দূর মহাকাশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।