গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬

জেএসসি

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

খোরশেদ আলম ২:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

print
গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

উদ্দীপক : ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য আলম গ্রীষ্মের ছুটিতে তার মামার সঙ্গে এমন একটি এলাকায় বেড়াতে গেল, যা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। উনিশ শতকের ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য এ এলাকাটি বেছে নিয়েছিল। আলমের মামা তাকে বললেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমন অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

ক) চিনি টিকরি মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
খ) প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ) উদ্দীপকে কোন ঐতিহাসিক নিদর্শনের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ) আলমের মামার বক্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর :
ক) চিনি টিকরি মসজিদ লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
খ) প্রত্নতত্ত্ব বলতে বোঝায় পুরনো স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলংকার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদি।
প্রত্ন শব্দের অর্থ হলো পুরনো। পুরনো স্থাপত্য, শিল্পকর্ম, ভাস্কর্য ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রত্নতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
গ) উদ্দীপকে সোনারগাঁর পানামনগর নামক ঐতিহাসিক নিদর্শনের ইঙ্গিত রয়েছে।
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁ। পরবর্তী সময়ে মোগল যুগে এর গুরুত্ব কমে যায়। কিন্তু তখনো মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে এর খ্যাতি ছিল। অনেক ধনী ব্যবসায়ী বসবাসের জন্য পানাম এলাকাটি বেছে নেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আলম তার মামার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক স্থানে বেড়াতে যায়, যেখানে উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য এলাকাটি বেছে নেন। এখানে যে ঐতিহাসিক স্থানটির ইঙ্গিত রয়েছে, তা হচ্ছে সোনারগাঁর পানামনগর। এখানে মূল সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ব্যবসায়ীরা অনেক ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। এখনো এখানে ৫২টি ইমারত টিকে আছে। চওড়া পথের দুই পাশে ইমারতগুলো সুন্দরভাবে সাজানো। এলাকার নিরাপত্তার জন্য পানামের অধিবাসীরা ইমারতগুলোর চারপাশ ঘিরে পরিখা খনন করেছিল।
ঘ) আলমের মামার বক্তব্যটি হচ্ছে- বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এমন অসংখ্য নিদর্শন অর্থাৎ
আমাদের দেশে বিভিন্ন স্থানে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনামলই ঔপনিবেশিক যুগ হিসেবে পরিচিত। ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে অনেক জমিদারবাড়ি, বণিকদের আবাসিক ভবন, অফিস-আদালত ভবন, রেলস্টেশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থাপত্য তৈরি হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় তা আজ প্রত্নসম্পদে পরিণত হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আলম তার মামার সঙ্গে এমন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে যায়, যেখানে উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীরা বসবাসের জন্য জায়গাটি বেছে নিয়েছিলেন। স্থানটি হচ্ছে পানামনগর। তার মামা তাকে আরও বললেন যে, বাংলাদেশের আনাচ-কানাচে এমন অনেক প্রত্ন নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, অর্থাৎ আমাদের দেশে বিভিন্ন স্থানে যে ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে তিনি সে কথাই বলেছেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। ঢাকার প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তির আরেকটি বিখ্যাত নিদর্শন হচ্ছে ঢাকার নবাবদের তৈরি প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল। পুরনো ঢাকার রূপলাল হাউস ও রোজ গার্ডেনও চমৎকার স্থাপত্যকর্ম। কার্জন হল ও গ্রিক সমাধিসৌধটিও প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। ঔপনিবেশিক যুগের ঢাকার স্থাপত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, যেমন- সূত্রাপুরের কলুটোলা মসজিদ, সিতারা বেগম মসজিদ, হোসেনি দালান ইত্যাদি। ঢাকেশ^রী মন্দির ও রমনা কালী মন্দির ঔপনিবেশিক যুগের আগে তৈরি হয়েছিল।

খোরশেদ আলম
সহকারী অধ্যাপক, একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ, ঢাকা।