পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

বাংলা

ফাতেমা বেগম ৫:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০২, ২০১৯

print
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

আমার জীবনের লক্ষ্য
ভূমিকা : ‘Who sows must reap: they say and cause must bring the sure effect.- Swami Vivekananda.’ জীবনে সার্থকতা লাভ করতে হলে একটি দৃঢ় সংকল্প থাকতে হয়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে যে এগিয়ে চলে তার সাফল্য সুনিশ্চিত হয়। তাই শৈশব থেকেই সবার জীবনে লক্ষ্য স্থির করতে হবে।

লক্ষ্য স্থির করার প্রয়োজনীয়তা :
‘An aimless life is like a boat without rudder.’ অর্থাৎ লক্ষ্যবিহীন জীবন যেন মাঝিবিহীন নৌকার মতো। তাই জীবন চলার পথে চাই সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত পথরেখা। জীবনের লক্ষ্য যেখানে সুনির্দিষ্ট নয় সেখানে পথভ্রষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই জীবনের শুরুতেই আমাদের লক্ষ্য স্থির করে মহাজীবনের পথে পাড়ি দিতে হবে।

আমার লক্ষ্য : মহাপুরুষদের জীবনী পাঠ করে ও পরিপার্শ্বের সফল মানুষদের দেখে আমি আমার জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছি।

আমি একজন নীতিবান শিক্ষক হব। শিক্ষক একটি জাতির বিবেককে গঠন করে। অশিক্ষা, কুশিক্ষা আর ধর্মান্ধতার মাতালতায় আমাদের জাতি আজ বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট। নীতিহীন, আদর্শহীন, সহানুভভূতিহীন এই সমাজ-বাস্তবতায় আজ প্রকৃত শিক্ষকের খুব প্রয়োজন। তাই আমি ঠিক করেছি শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে গ্রহণ করে জাতির পথপ্রদর্শক হব।

কেন আমি শিক্ষক হব : আমি পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা পেশাকে গ্রহণ করব, কারণ-
১. শিক্ষকতা খুব সম্মানের পেশা। এখানে মহৎ উদ্দেশ্যে কর্মদক্ষতার প্রয়োগ ঘটে।
২. সমাজ থেকে অশিক্ষা ও পুঞ্জীভূত কুসংস্কার দূর করতে এ পেশা সবচেয়ে কার্যকর।
৩. মানুষের আত্মশক্তির সম্ভাবনা জাগ্রত করতে সহায়ক হতে পারব।
৪. জ্ঞানদানের মহিমায় উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে সমাজে অনুকরণীয় হতে পারব।
৫. সার্থক ও নৈতিক আদর্শবান মানুষ তৈরি করে দেশসেবার মহান কর্মে আত্মনিয়োগ করে আত্মতৃপ্ত হতে পারব।

শিক্ষকের সম্মান ও মর্যাদা
রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘হে গুরু সম্মান তব সে দুরূহ কাজ
নমিয়া তোমারে যেন শিরোধার্য করি
সবিনয়ে। তব কার্যে যেন নাহি ডরি
কভু কারে।’

আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের প্রতি এ যেন আমারই নিবেদন। তাদের মহত্ব ও আদর্শিক ব্যক্তিত্ব আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, আমি তাদের পেশা গ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

এ লক্ষ্যে আমার তপস্যা :
একজন প্রকৃত শিক্ষক হতে হলে আমাকে এখন থেকেই সাধনা করতে হবে। সাধনার পথে হয়তো বাধা আসতে পারে কিন্তু সে বাধাকে জয় করে এগিয়ে চলাই আমার ব্রত হবে।
আমার প্রথম কাজ হবে নিষ্ঠা, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের সঙ্গে ছাত্রজীবন শেষ করা, জ্ঞানভা-ারকে সমৃদ্ধ করা এবং সুদক্ষ বাগভঙ্গিমাকে আয়ত্ত করা। এজন্য আমাকে বারবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

উপসংহার : শিক্ষক হতে হলে আমাকে প্রকৃত শিক্ষার আদর্শকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে হবে। এখন থেকেই নিয়মনিষ্ঠ হতে হবে। নীতিবোধকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। জনকল্যাণ ও দেশসেবার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষকতা পেশায় সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষকদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই। এই নিষ্ঠুর সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে। তবেই আমি লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারব।

সিনিয়র শিক্ষক
বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা।