গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি ৮:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০১৯

print
গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অষ্টম শ্রেণি

উদ্দীপক : নাদিয়া তার বাবার সঙ্গে ভোলা শহরের রাস্তা ধরে হাঁটছিল। হঠাৎ ভিড় দেখে কাছে গিয়ে দেখল একটি টিউবওয়েল দিয়ে পানি পড়ছে।
একটি ছেলে ম্যাচের কাঠিতে আগুন ধরিয়ে টিউবওয়েলের কাছে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। নাদিয়ার প্রশ্নের জবাবে বাবা বলেন, মাটির নিচ থেকে এক ধরনের বায়বীয় পদার্থ পানির সঙ্গে মিশেছে বলেই এ ঘটনা ঘটেছে তিনি আরও বললেন, ওই বায়বীয় পদার্থটি গৃহস্থালি ও কলকারখানার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ক) বাংলাদেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদটির নাম কী? খ) মৎস্য সম্পদের সঙ্গে জীবিকা অর্জনের সম্পর্ক বর্ণনা কর। গ) নাদিয়ার দেখা সম্পদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। ঘ) ওই সম্পদের প্রাচুর্যই আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক, এ বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি দাও।

ক) উত্তরঃ প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ।
খ) উত্তরঃ বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের সঙ্গে জীবিকা অর্জনের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশে অনেক নদ-নদী, খাল-বিল, ও দেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর রয়েছে। এসব খাল-বিল, নদ-নদীতে রয়েছে প্রচুর মিঠা পানির মাছ এবং বঙ্গোপসাগরে রয়েছে সামুদ্রিক মাছ। এসব মাছ ধরা ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে এ দেশের বহুলোক জড়িত। এভাবে মৎস্য সম্পদ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের জীবিকার অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

গ) উত্তরঃ নাদিয়ার দেখা সম্পদটি হলো প্রকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ। ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাস ক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে দেশে মোট ২৬টি গ্যাসক্ষেত্র আছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার রয়েছে। এটি গৃহস্থালি ও কলকারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাণিজ্যিক জ্বালানির শতকরা ৭৩ ভাগই এই প্রাকৃতিক গ্যাস দ্বারা পূরণ করা হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নাদিয়ার দেখা সম্পদের তথা প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঘ) উত্তরঃ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাচুর্য বাংলাদেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো শিল্পায়ন। প্রাকৃতিক গ্যাস আমাদের দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করেছে।

এর ফলে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধত হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে।
বিশেষ করে সার ও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া কাগজ শিল্প, ইস্পাত শিল্প, সিরামিক শিল্প এবং পোশাক শিল্পেও প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাচুর্যই পরোক্ষভাবে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়।

শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর।