লাগামহীন দ্রব্যমূল্য : কী করবে মানুষ!

ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

লাগামহীন দ্রব্যমূল্য : কী করবে মানুষ!

সম্পাদকীয় ডেস্ক
🕐 ৪:১২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২২

লাগামহীন দ্রব্যমূল্য : কী করবে মানুষ!

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া ছুটছে তো ছুটছেই! থামার নাম নেই। একদিকে জনজীবনে নানা রকম হতাশা, অর্থনৈতিক দোটানায় বিপর্যস্ত অবস্থা। আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে চলেছে করোনা। সংক্রমণে লাগাম টানতে নানা বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে গত কয়েক মাসে প্রায় নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। চালসহ জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশাহারা হয়ে উঠছে। অন্যদিকে টিসিবির পণ্য তেল, পেঁয়াজ ও চিনি বিক্রির ট্রাকের সামনে ভিড় বাড়ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে টিসিবির লাইনে নিম্নবিত্তের সঙ্গে এসে দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্তরাও। খোলা বাজারে ওএমএসের চাল কিনতেও একই দৃশ্য, লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ।

গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি গুদামে যথেষ্ট চালের মজুদ রয়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহও ভালো রয়েছে। তারপরও বাজারে কমছে না দাম। উল্টো দিন দিন চালের দাম মিলগেট, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বেড়েই চলেছে। দামের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভোক্তাদের তিন বেলার খাবার জোগাতেই তুলেছে নাভিশ্বাস। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি চালের দাম দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামী এক মাসে চালের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। আর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধে সরকারকে এ বছর দেড় থেকে দুই মিলিয়ন টন চাল আমদানি করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে বাজার ব্যবস্থাপনাসহ মিল থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত চাল সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ধানের চেয়ে চাল বেশি কেনায় মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে বড় ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো বাজারে আসায় চালের মজুদ বেড়েছে। মিলাররা সরকারি গুদামে চাল দিলেও খোলাবাজারে সঠিকভাবে সরবরাহ করছে না। ইচ্ছামতো সরবরাহ করে বাজারে দাম বাড়াচ্ছে। আবার একশ্রেণির ব্যবসায়ী চাচ্ছেন দেশে চাল আমদানি হোক। এজন্য দাম বাড়িয়ে বাজারে চাপ তৈরি করছেন। এ দাম কমাতে বাজার তদারকির বিকল্প নেই। এছাড়া বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ ভোক্তা চিকন ও মাঝারি ধরনের চাল খায়। এ চাল উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে। গত বোরো মৌসুমের ধান-চালের মজুদ প্রায় শেষ। ফলে সরবরাহ কম। এজন্য সরকারকে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর হতে হবে। মিল থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত চাল সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি করতে হবে। ওএমএসের কার্যক্রম বাড়লে দাম কমে আসবে বলেও জানান তারা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চালের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধে সরকারের এ বছর দেড় থেকে দুই মিলিয়ন টন চাল আমদানি করতে হবে। সরকারকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সরকার আমদানি করা চাল আনতে পারবে তত বেশি মঙ্গল হবে। তাহলে দাম কম বাড়বে। শুধু চাল নয়, প্রায় সব দ্রব্যের মূল্যই আকাশছোঁয়া। মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংকট বেড়েছে আরও। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সত্বর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অসাধু তৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের মুখোশও উন্মোচন করা হোক।

 
Electronic Paper