‘ওমিক্রন’ ঠেকাতে আগাম সতর্কতা দরকার

ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২ | ১১ মাঘ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘ওমিক্রন’ ঠেকাতে আগাম সতর্কতা দরকার

সম্পাদকীয় ডেস্ক
🕐 ১:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২১

‘ওমিক্রন’ ঠেকাতে আগাম সতর্কতা দরকার

দক্ষিণ আফ্রিকায় গত মঙ্গলবার করোনার ভয়ঙ্কর একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’। এরই মধ্যে বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং এবং ইসরায়েলেও শনাক্ত হয়েছে এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট। বলা হচ্ছে, চীনের উহানে আবির্ভূত হওয়ার পর নতুন এই করোনা ভাইরাসের যতগুলো ধরন এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে, তার মধ্যে ওমিক্রনেই জিন বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে সবচেয়ে বেশি। এর মানে হলো, করোনা ভাইরাসের যেসব টিকা এ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলো ওমিক্রনের ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। আবার জিন বিন্যাসে পরিবর্তনের কারণে এ ভাইরাস অনেক বেশি দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখতে পারে।

‘ওমিক্রন’ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ছড়াচ্ছে উদ্বেগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে ছড়াতে শুরু করেছে এই নতুন ধরন। জাপানসহ বিভিন্ন দেশ বিধি-নিষেধ জারি করতে শুরু করেছে। অনেক দেশ সীমান্ত বন্ধ করছে। তবে আশার কথা সংক্রমণ ঠেকাতে আগে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব বিমানবন্দর, স্থলবন্দর বা দেশের সব প্রবেশপথে স্ক্রিনিং আরো জোরদার করার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। করণীয় ঠিক করতে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আমরা অবহিত হয়েছি। এই ভ্যারিয়েন্ট খুবই অ্যাগ্রেসিভ। এ কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ এখনই স্থগিত করা হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের সব বিমানবন্দর এবং স্থলবন্দরে ‘স্ক্রিনিং’ও আরো জোরদার করা হচ্ছে।

এছাড়া সারাদেশে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে আরো কঠোর হওয়ার জন্য জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যান্য দেশ থেকে আসা নাগরিকদের বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তাদের টিকা নেয়া এবং তাদের আরটিপিসিআর টেস্ট করা আছে কিনা দেখা হবে।
দ্রুতসময়ের মধ্যে সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে এতে সন্তুষ্ট থাকা যাবে না। কারণ ঘনবসতির এই দেশে ওমিক্রন ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়লে তা সামাল দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হবে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহীদুল্লা বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানায় যে উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি এতে ফেব্রুয়ারি বা মার্চে আবার সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। সে আলোকে আবারো কড়াকড়িভাবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক পরা এবং হাত ধোয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের হোটেল-মোটেল-পর্যটন সব খুলে গেছে। সেখানে ভিড় হচ্ছে। কেউ মাস্কও পড়ছে না। এটা বিপজ্জনক হবে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে অবশ্যই সতর্কতা নেয়া উচিত। সীমান্তবর্তী এলাকা এবং যেসব এন্ট্রি পয়েন্ট রয়েছে সেখানে সার্ভিলেন্স জোরদার করতে হবে। এয়ারপোর্টগুলোকে নজরদারিতে রাখতে হবে। সেখানে পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেহেতু ভারতের সঙ্গে অনেক ল্যান্ডপোর্ট রয়েছে, সেখানে নজরদারি বাড়াতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে এরই মধ্যে এই ভ্যারিয়েন্ট না এলেও রোগী বাড়ছে। সেখান থেকে আমাদের এখানে আসতেই পারে। তাই সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। দ্রুত এই ওমিক্রমন সংকট কেটে যাবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 
Electronic Paper