আলু চাষিদের সংকট দূর করুন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১ | ৬ কার্তিক ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

আলু চাষিদের সংকট দূর করুন

সম্পাদকীয় ডেস্ক
🕐 ১:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২১

আলু চাষিদের সংকট দূর করুন

সর্বস্ব হারানোর ভয়ে রয়েছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। বাজার দর কমে যাওয়ায় হিমাগারে সংরক্ষণ করা লাখ লাখ বস্তা আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। প্রতিবস্তা আলুতে তাদের সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে জাত ভেদে এক হাজার থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। আর এখন বস্তাপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তাই লাভ তো দূরের কথা ধারদেনা শোধ করতে সর্বস্ব হারাতে বসেছেন তারা। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আলু চাষের বিখ্যাত জেলা জয়পুরহাটে গেল মৌসুমে ৪০ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল। যা থেকে উৎপাদন হয়েছে আট লাখ ৪৫ হাজার ২৭৯ মেট্রিক টন আলু। 

গত বছরে আলুতে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় এবারও জেলার ১৮টি হিমাগারে ৬০ কেজি হিসেবে প্রায় ২৬ লাখ বস্তা আলু মজুদ করেছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। যার পরিমাণ এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। বিক্রি মৌসুম শেষ হতে আর এক থেকে দেড় মাসের মতো থাকলেও বাজারে দাম না থাকায় এখন অবধি আলু বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। একদিকে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, হিমাগার থেকে ঋণ, অন্যদিকে হিমাগারের ভাড়া পরিশোধ করতে না পাড়ায় আলু উত্তোলন করছেন না ব্যবসায়ীরা। প্রকারভেদে বিভিন্ন জাতের বস্তাপ্রতি আলুতে খরচ হয়েছে এক হাজার থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। আর এখন বিক্রি করতে গেলে দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বস্তা। তাই মহাবিপাকে পড়েছেন তারা।

কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে জনৈক আলু ব্যবসায়ী বলেন, এবার ৫০ হাজার বস্তা আলু কয়েকটি হিমাগারে রেখেছি। বস্তাপ্রতি খরচ হয়েছে ১২৩০ টাকা করে। এখন সেই আলু বিক্রি করতে চাইছি, কিন্তু বাজার ৫৬০ টাকা। এ অবস্থায় আমার লোকসান হবে সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো। হিমাগারের মালিকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি, সেই টাকাও পরিশোধ করতে পারছি না। এখন আমার জমিজমা বিক্রি করেও সেই ঋণ শোধ হবে না। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, আলুগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করুক। এতে লাভ না হোক অন্তত পুঁজিটা যেন ফিরে পাই। আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দেড় হাজার বস্তা আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছি। এসব আলু কৃষকদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা দরে কিনেছি। এভাবে যদি আলুর বাজার কমতে থাকে তাহলে ঋণ তো শোধ হবেই না, উল্টো পথে নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, এক মাসের মধ্যেই চলতি রোপা আমন ধান কাটা শুরু হবে। ধান কেটে কৃষকরা যখন আলুর চাষ শুরু করবেন, তখন আলুর ব্যাপক প্রয়োজন হবে। সেই সময় কৃষকরা আলু কিনতে শুরু করলে হিমাগারের অবিক্রীত আলু বিক্রি হবে এবং আশানুরূপ দাম বাড়বে। এই সংকটকালে চাষি ও ব্যবসায়ীদের পাশে থাকা জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

 
Electronic Paper