মরণঘাতী ধূমপানের ছোবল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

মরণঘাতী ধূমপানের ছোবল

জনসচেতনতা কাম্য

সম্পাদকীয়-১ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮

print
মরণঘাতী ধূমপানের ছোবল

ধূমপানে বিষপান বা ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কথাগুলোর সঙ্গে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। কিন্তু ধূমপান কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন ধূমপানের চাহিদা বেড়েই চলেছে। ধূমপানে আসক্তি কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যতই কর বসানো হোক না কেন, ধূমপায়ীরা অতিরিক্ত দাম দিয়েই সিগারেট ক্রয় করছেন। অন্যদিকে ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে সচিত্র সতর্কবাণী ও সিগারেটের বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হলেও ধূমপায়ীরা তাতে মোটেও সচেতন হচ্ছেন না। একজন ধূমপায়ী শুধু নিজের ক্ষতিই করছেন না, তিনি ধূমপান করার সময় তার চারপাশের মানুষেরও ক্ষতি করছেন।

খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কেবল ধূমপান কিংবা তামাক সেবনের কারণে দেশে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে এক লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ। গবেষণা বলছে, বিশ্বে এ সংখ্যা বছরে ৭০ লাখেরও বেশি। এ তো গেল প্রত্যক্ষ ধূমপান বা তামাক সেবনের হিসাব। পরোক্ষ ধূমপানেও কম মানুষ মারা যাচ্ছে না বিশ্বে। এ সংখ্যা ৯ লাখের মতো। হিসাব বলছে, প্রতি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিশ্বে তামাক সেবন বা ধূমপানের কারণে মারা যাচ্ছে ১ জন লোক। টোব্যাকো এটলাস ২০১৮ এমন গবেষণাই হাজির করেছে।

একটি সুস্থ সমাজের জন্য এমন দুরবস্থার অবসান কাম্য। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। নিছক কৌতূহলের কারণেই অধিকাংশ মানুষ কম বয়সে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। স্বাস্থ্যগত কোনো উপকারের বদলে ক্ষতিকর দিক নিশ্চিত জেনেও দেশের অধিকাংশ কিশোর ও তরুণরা ধূমপানে জড়িয়ে পড়ছে। দৈনন্দিন জীবনে সিগারেটকে অনেকে স্রেফ বিনোদন হিসেবেও গ্রহণ করছেন। ধূমপায়ীরা স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে কোনো যুক্তিই যেন মানতে নারাজ। ধূমপান করাকে একটি অধিকার হিসেবে গণ্য করে তারা যত্রতত্র ধূমপান করছেন।

এ ক্ষেত্রে সরকার প্রকাশ্যে ধূমপান না করার ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান করলেও সে আইনের কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না। আবার সিগারেট বিক্রি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনাও সরকারের নেই। তাই প্রকাশ্যে সিগারেট বিক্রি হওয়ায় প্রকাশ্যে ধূমপানও হচ্ছে।

তা ছাড়া বেশি বেশি করারোপ করে সিগারেটের প্রতি আসক্তি কমানো যাবে না। তাই এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা কাম্য। ধূমপায়ীরা ধূমপান করবে, কিন্তু ধূমপান কমানোর জন্য যারা কাজ করছেন তাদেরও এ ক্ষেত্রে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আশার কথা, বর্তমানে অনেকেই ধূমপান ছেড়ে দিচ্ছেন; তবে এ ইতিবাচকতার রেশ সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়া দরকার। কারণ, অধূমপায়ী মানুষরা মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে চায়। তারা ধূমপানের বিষাক্ত বাতাস গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত অধূমপায়ীদেরও পরোক্ষভাবে ধূমপানের ক্ষতির স্বীকার হতে হচ্ছে, আমরা আশা করব এ অবস্থার অবসান হবে। ধূমপায়ীরা ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত হয়ে ধূমপান ত্যাগ করতে উৎসাহী হবে, আমরা সামগ্রিকভাবে সে প্রত্যাশাই করি।